হাওড়া: হাওড়ার গঙ্গারাম বৈরাগী লেনে অস্ত্র তৈরির কারখানার তদন্তে নেমে বিহারে রওনা হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। তবে ওই অস্ত্র কারখানার মূল পান্ডা এখনও অধরা। ওই যুবকের খোঁজ শুরু হয়েছে। তবে, হাওড়ার ওই এঁদো গলিতে যে এরকম অস্ত্র কারখানা চলত তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।

ওই এলাকার ৭৪, গঙ্গারাম বৈরাগী লেনের ৫ তলা বিল্ডিংটিতে রয়েছে ২০টি ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটে থাকেন প্রায় ১৫০ জন আবাসিক। বিল্ডিংটি চার ভাইয়ের ভাগ আছে। তাঁরা প্রত্যেকেই আলাদা থাকেন। যেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয় সেই অংশের মালিক মারা গেছেন অনেকদিন আগেই। তাঁরা বাড়িতে ভাড়া বসিয়ে চলে যান টিটাগড়ে।

অস্ত্র কারবারিরা ওই বিল্ডিংয়ের একতলায় ভাড়া নিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ শাকিল জানান, অভিযুক্তেরা প্রায় চার বছর ধরে এখানে ভাড়া নিয়ে রয়েছে। পাড়ায় কারও সঙ্গে তাঁরা কথা বলতেন না। সবসময় ঘরের দরজা, জানলা বন্ধ থাকত। ঘরের সামনে বসানো ছিল লেদ মেশিন। সেই লেদ মেশিন সবসময় চালান থাকত। তার আড়ালে চলছিল অস্ত্র ব্যবসা। সেই কারণে এলাকার মানুষের সন্দেহ হয়নি যে এখানে এমন বেআইনী কাজ হত।

এরা ঘরে রান্নাও করত না। বাইরের হোটেলে খাওয়াদাওয়া করত। প্রায় চার বছরের মধ্যে তাদের সঙ্গে এলাকার মানুষের সম্পর্ক বেশি ছিলনা। তাদের সঙ্গে কার্যত কারও যোগাযোগ ছিলনা। অভিযুক্তেরা এত বছরে এলাকায় কোন ঝামেলাও করেনি। লেদ কারখানায় কি তৈরি হত তা জানা ছিলনা এলাকার কারোরই। তাদের জিনিসপত্র কখন আসত বা যেত তা এলাকার কেউই জানতেন না।

যে বিল্ডিংয়ে এরা বসবাস করেন সেই বিল্ডিংয়ে এতদিন ধরে রমরমিয়ে চলছিল অস্ত্র তৈরির কারখানা। মঙ্গলবার তাঁদের বিল্ডিংয়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার খবর পেয়ে হতবাক হয়ে যান এখানকার আবাসিকরাও। কি করে এতদিন ধরে এই ঘিঞ্জি এলাকায় সকলের অলক্ষ্যে বেআইনী অস্ত্র তৈরির ঠেক চলছিল তা এখনও বুঝতে পারছেন না তারা।

ঘটনার দিন সন্ধ্যে নাগাদ পুলিশের অভিযানের পর এলাকার মানুষ জানতে পারেন আসল ঘটনা। এই ঘটনার জেরে আতঙ্ক গ্রাস করেছে ওই এলাকায়। উল্লেখ্য, হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার গঙ্গারাম বৈরাগী লেনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই অস্ত্র কারখানার হদিশ মেলে। একটি ছোট্ট গলির মধ্যে লেদ কারখানা চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সেখানে হানা দেয়। হানা দিয়ে প্রায় চল্লিশটি ফিনিশড আর্মস পায়।

এছাড়াও প্রায় ৩০টি আনফিনিশড অবস্থায় আর্মস পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ধৃত তিনজনেই বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা। তারা এই ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল। সারাদিন দরজা বন্ধ করে এই ঘরের ভিতরে তারা অস্ত্র তৈরি করত বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। স্থানীয় যে লোকটির মাধ্যমে তারা এই ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল তার খোঁজ মেলেনি এখনও।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ