চট্টগ্রাম: করোনা হামলায় বাংলাদেশ তথৈবচ। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে সংক্রমণ বিরাট আকারে ছড়িয়েছে। এর মাঝেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ফের বিচ্ছিন্নতাবাদী দুটি গোষ্ঠীর গুলির লড়াইয়ে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হলো। প্রাথমিকভাবে ৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ এসেছে।

প্রকাশ্যে হামলা, এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর ঘটনা নতুন কিছু নয় পার্বত্য চট্টগ্রামে। এলাকা দখলের জন্য বিভিন্ন সশস্ত্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে রক্তাক্ত পরিস্থিতি কায়েম করে রেখেছে।

মঙ্গলবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান সদর উপজেলার বাঘমারা এলাকায় সশস্ত্র দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর গুলির লড়াইয়ে উভয় পক্ষের ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আরও কয়েকজন জখম।

এলাকার দখল নিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতর সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু করে জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা) গোষ্ঠী। দু পক্ষের তীব্র সংঘর্ষের জেরে প্রবল উত্তেজনা চলছে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী এই পার্বত্য এলাকায়।

সংঘর্ষ পরে থামলেও বাগমারা এলাকায় প্রকাশ্যে পরপর মৃতদেহ পড়ে থাকে। পরে বান্দরবান থানার পুলিশ গিয়ে সেই দেহগুলি উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর দাবি, দু তরফের পাল্টাপাল্টি হামলায় গত এক বছরে বান্দরবানে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একনজরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘর্ষ এবং শান্তি চুক্তি:

(ক) ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ তৈরির পর পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বিশেষ করে চাকমা জনগোষ্ঠী পৃথক স্বশাসিত এলাকার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালাতে থাকে। তৈরি হয় জনসংহতি সমিতি।

(খ) পরে সংগঠনের প্রধান নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) নির্দেশে শুরু হয় সংঘর্ষ। বাংলাদেশ সরকারের বিরোধী হয়ে সরাসরি সশস্ত্র পথ নেন এই পাহাড়ি নেতা।

(গ) দীর্ঘ সময় পরে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে শান্তি চুক্তি করে জনসংহতি সমিতি।

(ঘ) শান্তি চুক্তির পরে বারবার জেএসএস অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেই শান্তি চুক্তির শর্তগুলি পূরণ হয়নি। এক মাঝে জেএসএসে ভাঙন ধরে। আরও কিছু পার্বত্য গোষ্ঠী তৈরি হয়। তারপর থেকে বারে বারে পারস্পকিক সংঘর্ষ চলছে তাদের মধ্যে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ