ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: বায়ুসেনা সম্পর্কে এক ভয়ঙ্কর রিপোর্ট প্রকাশ হল লোকসভায়। বুধবার সরকারের তরফ থেকে লোকসভায় পেশ করা একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ২০১৪ থেকে ১৫-র মধ্যে ১১ টি হেলিকপ্টার সহ মোট ৩৫টি এয়ারক্রাফট হারিয়েছে বায়ুসেনা।

ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে এখনও পর্যন্ত আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্সের মোট ৭০টি এয়ারক্রাফট দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে। এতে অন্তত ৮০জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি ফাইটার জেট, যার মধ্যে পাঁচটি হল সুখোই-৩০ এমকেআই।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সুভাষ ভামরে জানিয়েছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লিখিতভাবে এই জবাব দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাড়াতে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দুটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যা ও মানুষের সমস্যা। এছাড়াও রয়েছে পুরনো এয়ারক্রাফট, মেরামতের অভাব, পাইলটের ট্রেনিং-এ খামতি ইত্যাদি।

যদিও পাইলটদের প্রতিনিয়ত আধুনিক কৌশল শেখানো হয়, তবে নতুন এয়ারক্রাফট না ব্যবহার করায় অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়।

সেইসঙ্গে আরও বলা হয়েছে যে, ভারতীয় বায়ুসেনার এই মুহূর্তে ৪৮৪টি লাইট হেলিকপ্টার প্রয়োজন। চিতা-চেতকের ফ্লিট বদলে সেগুলি আনা হবে। এগুলি ৭০-এর দশকে বায়ুসেনায় যুক্ত হয়েছিল। এই হেলিকপ্টারগুলি গত কয়েক বছরে বারবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ২০০ কামোভ হেলিকপ্টারের চুক্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ২০০৯-এ হেলিকপ্টার তৈরির একটি প্রজেক্ট নেয় হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স, সেটিও এখনও কার্যকর হয়নি।