নয়াদিল্লি: লাদাখ নিয়ে ভারত-চিন সীমান্তে সংঘাত। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় জওয়ানকে শহিদ হতে হয়েছে। এরপরেই ভারত চিন সীমান্তে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। রীতিমত সমরসজ্জা সাজাতে শুরু করে লাল চিন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অনেকে ঠান্ডা। কিন্তু কখনই বিশ্বাস করা যায় না চিনকে। আর তাই প্রয়োজনে ভারতীয় সেনাকে ৩০০ কোটির সামরিক অস্ত্র কেনার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার, এমনটাই জানা গিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলে একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্ডার প্লেস করার ১২ মাসের মধ্যেই যেন মিলিটারির হাতে এই সকল সামরিকভাবে ব্যবহৃত অস্ত্র এসে পৌঁছে যায় সেদিকেও নজর নেওয়া হয়েছে এবং কাজটি সময়ের মধ্যে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাদাখ সংঘাতের মাঝেই দেশের সেনাকে সম্পূর্ণ পোক্ত সমরসজ্জায় সাজাতে ব্যস্ত কেন্দ্র। সীমান্ত সংঘাত যখন চরমে উঠেছে, ঠিক সেই সময় দেশের সেনাকে হাত ভর্তি করে প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

ডিফেন্স মিনিস্ট্রির তরফে জানা গিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে ৩০০ কোটি টাকার অস্ত্র কিনতে পারে সেনা। এই টাকার মধ্যে সেনা চাইলে প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে পারবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সেনাকে এই বিষয়ে অস্ত্র কেনার সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ কররা বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।

বর্তমানে ভারতের বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ২১ টি মিগ ২৯ কেনা হতে পারে। যা কেনা হবে রাশিয়া থেকে। ১২ টি নতুন সুখোই ৩০ যুদ্ধবিমান দেশে তৈরি হবে। যা তৈরি করার দায়িত্বে রয়েছে হিন্দুস্তান এওরোনটিক্স লিমিটেড।

এছাড়াও ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল ও ৫৯ টি মিগ ২৯ আপগ্রেড যুদ্ধবিমান ভারতে আসতে পারে বলে খবর। এদিকে মিলিটারি হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত জিনিসপত্র ভারতেই তৈরি হচ্ছে। আর তা আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের আওতায় তৈরি হতে শুরু করেছে।

কোন দেশ থেকে এই হালকা ওজনের ট্যাঙ্ক কেনা হবে, তা যদিও এখনও স্থির হয়নি। তবে চিন ছাড়া এই মুহূর্তে রাশিয়াই যেহেতু একমাত্র দেশ, যারা বিমানে বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব এমন হালকা ওজনের ট্যাঙ্ক তৈরি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও হালকা ওজনের ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

লাদাখের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি চালানোর জন্য হেরন ড্রোনের প্রয়োজন বলে মনে করছে ভারতীয় সেনা। তবে এতেই শেষ নয়। ভারতীয় সেনা পাচ্ছে স্পাইক অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলও। ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে ইতিমধ্যেই হেরন ড্রোন রয়েছে। এই শক্তিশালী ড্রোন ব্যবহার করে নৌসেনাও। সেনার নজরদারিতে হেরন ড্রোন অত্যন্ত উপযোগী।

এর টার্গেট অ্যাকুইজিশন ব্যাটারি যথেষ্ট উন্নত মানের। আপাতত লাদাখ সেক্টরে হেরন ড্রোন দিয়েই নজরদারি চালাচ্ছে বায়ুসেনা। তবে আরও ড্রোন প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে হেরন ইউএভি কেনার বরাত মিলেছে। তবে ঠিক কটি ড্রোন কেনা হবে, তা জানানো হয়নি।

১০ কিমি ওপরে ওড়ার ক্ষমতা সম্পন্ন হেরন টানা দু দিনের বেশি সময় ধরে উড়তে পারে। যে কোনও প্রতিকূল আবহাওয়াতেও কাজ করার ক্ষমতা রাখে হেরন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ