প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: জামিন পেলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং সহ মোট ১১ জন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর মহকুমা আদালত থেকে এই জামিন মঞ্জুর হয়।

চলতি মাসের ১ তারিখে শ্যামনগর, ভাটপাড়া এলাকায় একটি দলীয় কার্যালয় দখল নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। শ্যামনগর ফিডার রোডের উপর বিজেপি এবং তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ভাঙচুর করা হয় বারাকপুর বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গাড়ি। এরপরেই বিজেপি কর্মীরা ওইদিন ভাটপাড়া, জগদ্দল প্রভৃতি এলাকায় দফায় দফায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে । সেই বিক্ষোভ তুলতে গিয়ে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্মীরা পুলিশ কমিশনার মনোজ বার্মার নেতৃত্বে বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। পাল্টা ইঁট বৃষ্টি করে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিজেপি সমর্থকরা।

পুলিশকে লক্ষ করে ইঁট ছোঁড়া হয় । ওইদিন হঠাৎ মাথা ফেটে যায় সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। রক্তাক্ত হন বিজেপি সাংসদ। সেদিন ভাটপাড়ায় অশান্তির সময় বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিকের একটি বন্দুক ও একটি দেহ ক্যামেরা হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেদিনের অশান্তির ঘটনায় বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে এলাকার একাধিক বিজেপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে গত ১ লা সেপ্টেম্বর পুলিশের উপর হামলা হয়েছিল। সেই মামলায় সাংসদ অর্জুন সিং, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং, ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং, ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান সৌরভ সিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মামলায় আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর বারাকপুর মহকুমা আদালতে এসে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, সুনীল সিংরা জামিন নেয় ।

অর্জুন সিং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “সেদিন আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হল, পুলিশ কমিশনার বন্দুকের বাড়ি মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দিল, আমি ও আমার দলের কর্মীরা পুলিশের হাতে মার খেলাম । আবার আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করল পুলিশ । রাজ্যে এখন আইন বলে কিছু নেই। রাজ্যে পুলিশ রাজ চলছে । আমি, নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং, ভাটপাড়ার পুরপ্রধান সৌরভ সিং সহ আমরা ১১ জন আজ জামিন পেলাম ব্যারাকপুর আদালত থেকে । তবে এই পুলিশ রাজ বেশিদিন চলবে না । এই সরকারের পতন হবেই ।”