ফাইল ছবি

প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ভাটপাড়া এলাকা। সোমবার গভীররাতে ভাটপাড়ায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যু হল দুই তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকের।

মৃতদের নাম মহম্মদ হালিম (৫৭) এবং মহম্মদ মোক্তার (৫২)। তাদের দুজনকে বোমা মেরে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ঘটনাটি ঘটেছে ভাটপাড়া পুরসভা এলাকার আর্য্যসমাজ রোড এলাকার বারুইপাড়াতে।

এই জোড়া খুনের ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জগদ্দল থানার পুলিশ তদন্তে নেমে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে এই ঘটনায় বিজেপির যোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। গোটা ঘটনার জেরে মঙ্গলবারও থমথমে ছিল ভাটপাড়ার আর্য্যসমাজ রোড এলাকার বাড়ুইপাড়া এলাকা। এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার রাত ১১ টা নাগাদ এই দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটে। বারুইপাড়া এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ হালিম, তার স্ত্রী রুবী পারভিন ও প্রতিবেশী মহম্মদ মোক্তার রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ির সামনে বসে ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই কয়েকজন দুষ্কৃতী এলাকায় ঢুকে পর পর দুটি বোম মারে বলে অভিযোগ। একটি বোমা সরাসরি গিয়ে পড়ে মহম্মদ হালিমের মাথায়। সেখানেই ওই বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় মহম্মদ হালিমের, ওই বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম হন হালিমের স্ত্রী রুবী পারভিন। তার ঘাড়ের মাংস উড়ে যায়।

অপর একটি বোমার আঘাতে রক্তাক্ত হন পেশায় জুটমিল কর্মী মহম্মদ মোক্তার। তার পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ঘটনার খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ এসে মহম্মদ হালিমের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অন্য জখমদের সঙ্গে সঙ্গে ভরতি করা হয় ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানেই মঙ্গলবার ভোর রাতে মৃত্যু হয় মহম্মদ মোক্তারের।

ওই বোমাবাজির ঘটনায় জখম মহম্মদ হালিমের ছেলে পারভেজ আলম বলেন, “হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘরে গরম বলে বাবা মা ঘরের বাইরে এসে বসে গল্প করছিল। তখন অতর্কিতে ওরা বোমা মেরে আমার বাবাকে খুন করল। আমরা তৃণমূল দলকে ভোট দিয়ে ছিলাম। ওরা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী ছিল। এই পাড়ার অধিকাংশ মানুষই ঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে এই এলাকার বেশ কয়েকটা বাড়িতে ওরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এখানকার সবাই আতঙ্কিত।”

অন্যদিকে এই ঘটনা সঙ্গে রাজনীতি বা বিজেপি যোগের কথা অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা যে তালিকা পুলিশকে গ্রেফতার করার জন্য ধরিয়ে দিয়েছে, সেই তালিকা ধরে পুলিশ বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের ধরছে, হেনস্থা করছে। এভাবে কোনদিন প্রকৃত দোষীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না। এত দুষ্কৃতী হামলা চালাচ্ছে, পুলিশ কেন ধরতে পারছে না? নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত দুষ্কৃতীরা ধরা পড়বে এবং এলাকা শান্ত থাকবে। আসল দোষীদের খুঁজে বের করার দ্বায়িত্ব পুলিশের। কোন বিজেপি, তৃণমূল বিষয় এই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নেই।”

এই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে জগদ্দল থানার পুলিশ তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে । তাদের নাম জানা গেছে প্রদীপ সাউ, লালবাবু দাস এবং ইন্দ্রজিৎ দাস । তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ৩০২, ৩০৭, ৩২৬, ১২০ বি এবং ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করলে আদালত ধৃত তিন জন অভিযুক্তকে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।