নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: দলবদলের পরে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের জায়গা আরও মজবুত করে নিয়েছেন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং৷ গেরুয়া শিবির থেকেই তাঁর একসময়ের নেত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক তোপ দাগছেন তিনি৷

লোকসভা নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক৷ বিজেপির ধর্মের রাজনীতি করছে বলে ক্ষোভ উগরে দেয় তৃণমূল শিবির৷ ধীরে ধীরে তা এমনই পর্যায়ে পৌঁছয় যে তৃণমূল সুপ্রিমো-নেতা-মন্ত্রীদের দেখলেই এখন জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মেতে উঠছে বিজেপি সমর্থকেরা৷

শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ১০ লক্ষ জয় শ্রীরাম লেখা কার্ড পাঠানোর কথাও বলেন অর্জুন সিং৷ অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেই শ্রীরামের মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হবে৷ এমতাবস্থায় পাল্টা দিতে ময়দানে নামেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তোলেন জয় হিন্দ, জয় বাংলা, বন্দে মাতরম ধ্বনি৷

যদিও সেই নিয়ে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য তৃণমূলের এই স্লোগানে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই৷ ভারতীয় এবং বাঙালি হিসেবে জয় হিন্দ, জয় বাংলা তাঁরা বলবেন, সেই সঙ্গে বলবেন জয় শ্রীরাম৷ বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ করে জয় হিন্দ, জয় বাংলা স্লোগান পাঠানো হলে ট্যুইটার থেকে ফেসবুকে তার স্ক্রিন শট তুলে ধরে উপরোক্ত বক্তব্যই পেশ করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়৷

বাবুল সুপ্রিয় ট্যুইট করেন, যাতে লেখা ছিল, “ভারতীয় ও বাঙালি হিসেবে তৃণমূলীদের জানাই জয় হিন্দ জয় বাংলা ও অনেক শুভেচ্ছা এতগুলো মেসেজ পাঠানোর জন্য৷ মমতাদিদিকে আমাদের ‘জয় শ্রী রাম’ জানাবেন৷ যদি দিদি ভয় পান, তাহলে তিন বার একসাথে জোর গলায় ‘জয় শ্রী রাম জয় শ্রী রাম জয় শ্রী রাম’ বলবেন ! ভালো থাকবেন প্রণাম – জয় শ্রী রাম”

এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়ার লেনিন নগরে এক দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অর্জুন সিং সাফ বলেন “একটা সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া কিছু দেখতেন না৷ সেই মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আজকে জয় হিন্দ এবং জয় বাংলা বলতে হচ্ছে৷ আগে দিদি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দোপাধ্যায় জিন্দাবাদ শুনতে ভালবাসতেন, কিন্তু মোদীজিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত, আজ মমতাদিদি জয় হিন্দ, জয় বাংলা বলতে বাধ্য হয়েছেন৷”