কলকাতা: লোকসভা নির্বাচন নিয়ে যখন উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। ঠিক সেই সময়ে অর্জুন সিংয়ের খাসতালুক ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচন জমিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী। দীর্ঘদিনের লড়াই নেতা মদন মিত্রকে দাঁড় করালেন এই কেন্দ্র থেকে। বরাবরই ফাইটার হিসাবে পরিচিত মদন মিত্র। আর সেজন্যেই প্রভাবশালী অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে।

কিন্তু দলেরই একাংশের ব্যাখ্যা মদনকে বাঘের ডেরায় লড়তে পাঠালেন নেত্রী। লড়াইটা খুব একটা সহজ হবে না বলেই মত তাঁদের। পরাজয় মানেই প্রশ্ন উঠবে মদন মিত্রের রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যত নিয়ে। কিন্তু তিনি যে দমার পাত্র নন তা বুঝিয়ে দিলেন নাম ঘোষণার পরেই। অর্জুন সিংয়ের পাড়া থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন মদন মিত্র।

একদিকে যখন তৃণমূল নেত্রী মদন মিত্রকে প্রার্থী করে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক মারলেন। অন্যদিকে তখন রাজনৈতিকমহলে জোর জল্পনা বিজেপি নেতা অর্জুনের খাসতালুকে কাকে প্রার্থী করবে বিজেপি? যদিও এই প্রসঙ্গে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বেতাজ বাদসা অর্জুন সিংয়ের দাবি, দল যাকে খুশি প্রার্থী করতে পারে। তাঁকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আমার।

যদিও বিজেপি সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ভাটপাড়া উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হতে চলেছেন ‘বাহুবলী’ অর্জুন সিং-এর ছেলে পবন সিং। জানা গিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে এই বিষয়ে অর্জুন সিংয়ের দফায় দফায় বৈঠক হয়। এরপরেই মুকুল-দিলীপরা দিল্লিতে পবনের নাম পাঠিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এখন শুধু দিল্লির সিলমোহরের অপেক্ষা।

রাজনৈতিকমহলের মতে, ছেলেকে যদি বিজেপি প্রার্থী করে তাহলে এই ভোট হবে অর্জুনের কাছে প্রেস্টিজিয়াস ফাইট। অনেকের মতে লোকসভার পাশাপাশি বিধানসভা উপনির্বাচনেও কার্যত লড়তে হবে অর্জুনকে। কখনই চাইবেন না মদন মিত্রের কাছে তাঁর ছেলে হেরে যাক। আর তা হলে তাঁর খাসতালুক হিসাবে পরিচিত ভাটপাড়াতে নিজের জায়গাটাও কার্যত টলমল হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ভাটপাড়া পুরসভা অর্জুনের হাতছাড়া হয়েছে। ফলে উপনির্বাচনে ছেলে পবনকে জেতাতে সবশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন অর্জুন।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্য, একেবারে অর্জুন সিং স্টাইলেই ভাটপাড়ার উপনির্বাচন হবে। পাশাপাশি ভাটপাড়ার উপনির্বাচন মুকুল রায়ের কাছেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অর্জুনের পাশাপাশি এই অঞ্চলগুলিতে তৃণমূলের প্রাক্তন চাণক্যের যথেষ্ট আধিপত্য রয়েছে। ফলেও তিনিও চাইবেন না এই বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের হাতে যাক। ফলে পিছন থেকে কলকাঠি যে মুকুল নাড়বেন না তা একবাক্যে অস্বীকার করতে পারছেন না রাজনৈতিকমহলের কারবারিরা।

অন্যদিকে, বিপরীতে মদন মিত্রও রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া নেতা। তাঁরও সাংগঠনিক দক্ষতা কম নয়। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যে লড়াই করেছেন। নির্বাচনে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও তাঁর কম নয়। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এখনও মদন মিত্র ডাক দিলে হাজার হাজার লোকের জমায়েত করে দিতে পারেন। ফলে লড়াই যে একেবারে সেয়ানে সেয়ানে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।