বারাকপুর: খোঁজ নেই রাজীব কুমারের। প্রাক্তন এই পুলিশ কমিশনারের খোঁজ পেতে রীতিমত কালঘাম ছুটছে সিবিআইয়ের। যদিও মেঘনাথের ভূমিকাতে থেকেই আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে যাচ্ছেন রাজীব কুমার। আর এরই মধ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, “রাজীব কুমার ধরা পরলে তৃণমূলের সরকার তাসের ঘরের মত ভেঙে পরবে। আর তাই যে কোনও মুহূর্তে তিনি খুন হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিজেপি এই সাংসদ।

উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। অর্জুনের সুরেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজীব কুমার গ্রেফতার হলে বহু নেতার কেলেঙ্কারি সামনে চলে আসবে। আর সে কারণেই রাজীব কুমারকে হত্যা করা হতে পারে বলে শঙ্কিত তিনি।

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত বিশেষ আদালতে পুরনো মামলার হাজিরা দিতে আসেন অর্জুন সিং। সেখানে রাজীব কুমার প্রসঙ্গে একদিকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অন্যদিকে এভাবেই রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। এদিন তিনি বলেন “এক জন সাব ইন্সপেক্টরকে ছুটি নিতে গেলে তাকেও সরকারকে সব তথ্য দিয়ে যেতে হয়। এমন কি তার ফোন নম্বর পর্যন্ত সরকারের কাছে দিতে হয়। আর সেখানে অত বড় একজন পুলিশ অফিসার রাজীব কুমার ছুটি পাচ্ছেন অথচ সরকারের কাছে রাজীব কুমার ছুটি নিয়ে কোথায় আছে তার কোন তথ্য নেই। এটা হতে পারে??”

পাশাপাশি এদিন তিনি অভিযোগ করে বলেন যে “রাজীব কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে কোথাও আটক রেখেছেন। যে কোন দিন ওনাকে খুন করা হতে পারে। ওনার পরিবারকে সহানুভূতির সঙ্গে বলছি যদি রাজীব কুমার বেঁচে থেকে থাকেন তাহলে যত দ্রুত সম্ভব উনি আত্মসমর্পণ করুন। নইলে যে কোন মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওনাকে খুন করাতে পারে। কারন রাজীব কুমার মুখ খুললে সব চেয়ে বেশী ভয় তৃণমূলে।

তাঁর এই মন্তব্যের পিছনে কারন হিসাবে অর্জুন সিং বলেন, রাজীব কুমারের কাছে প্রচুর তথ্য আছে। যেমন লাল ডায়েরি, হলুদ ডায়েরি। আর তাতে কত নাম আসতে পারে যার ফলে তৃণমূলের সরকার তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়বে। এমনকি রাজীব কুমার গ্রেফতার হলে মুখ খুললে পিসি আর ভাইপোর নাম ও আসবে। তাই আমার আশঙ্কা খুন হতে পারেন রাজীব কুমার।

অন্যদিকে তৃণমূল সরকার তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে বলে ফের একবার অভিযোগ করলেন অর্জুন সিং। একই সঙ্গে অর্জুন সিংকেও নজিরবিহীন আক্রমণ করেন এই বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেন, জ্যোতিপ্রিয় নারী ঘটিত মামলায় জর্জরিত হয়ে পাগল হয়ে গিয়েছেন। আর তাই যাদবপুর প্রসঙ্গে ভুল বকছেন বলে মন্তব্য করেন অর্জুন সিং। এদিন যাদবপুর ঘটনা প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় ও রাজ্যপালের ভূমিকার প্রশংসা করে অর্জুন বাবু বলেন যে”যেখানে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, ৬ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মার খাচ্ছে, পুলিশের কোন পাত্তা নেই সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল একদম সঠিক কাজ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লজ্জা হওয়া উচিত যে উনি কেন গেলেন না এই পরিস্থিতি সামাল দিতে।”