স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ভাটপাড়ায় গুলি কাণ্ডে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে এবার লোকসভায় প্রিভিলেজ মোশন আনা হবে৷ সংসদে কৈফিয়ৎ তলব করা হবে পুলিশদের৷ জানালেন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।

‘‘ভাটপাড়ায় নিরীহ দুই ব্যাক্তির প্রাণ গিয়েছে পুলিশের গুলিতে৷ পুলিশের গুলিতেই জখম হয়েছে আরও সাত জন। জখমদের কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, সেখানেই এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা। যে পুলিশ আফিসাররা রাজ্য সরকারের কথা শুনে মজা করে নিরীহ মানুষদের উপর গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করল, তারা কেউ ছাড়া পাবে না। সবাইকে জেলে যেতে হবে।’’ জানিয়েছেন গেরুয়া দলের ডাকাবুকো নেতা অর্জুন সিং৷

আরও পড়ুন: ‘কাটমানি’ উদ্ধারে ভুক্তভোগীদের আইনি সাহায্য বিজেপির

সাংসদের আশ্বাস, ‘‘ভাটপাড়া গুলি কাণ্ডে জড়িত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে আমরা প্রিভিলেজ নোটিশ আনছি। পুলিশ আধিকারিক অজয় ঠাকুর, নোয়াপাড়া থানার আইসি স্বপন সাহা সহ যে যে পুলিশ আফিসাররা সেদিন গুলি চালনার ঘটনায় জড়িত ছিল প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ নোটিশ জারি করা হবে। তাদের লোকসভায় টেনে নিয়ে গিয়ে ওদের কাছ থেকে সেদিনের গুলি চালনার বিষয়ে কৈফিয়ৎ তলব করা হবে। কেউ বাঁচবে না।’’

তাঁর প্রশ্ন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পুলিশ কি ভেবেছে, মানুষের জীবন কি খুব সস্তা হয়ে গেছে। পশু, পাখির থেকেও সস্তা, যখন ইচ্ছা হল গুলি চালিয়ে খুন করে দিলাম। ভাবছে বেঁচে যাবে। লোকসভায় দাঁড় করিয়ে জানতে চাওয়া হবে কেন, কার নির্দেশে তারা নিরস্ত্র সাধারন মানুষের উপর গুলি চালিয়েছিল।”

এদিকে সোমবার অন্যান্য দিনের তুলনায় ভাটপাড়া এলাকা মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল । বেশ কিছু দোকান বাজার এদিন সকালে খুলতে দেখা গেছে । অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশী লোক এদিন রাস্তায় বেরিয়েছে। তবে এলাকার বেশিরভাগ স্কুলে নিরাপত্তাহীনতার কারনে এদিনও ছাত্রছাত্রীদের তাদের অভিভাবকরা পাঠাননি
এদিও পুলিশ কমিশনার মনোজ বার্মা নিজে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভাটপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হামলার আতঙ্কে কলকাতার বদলে দিল্লিতে ডাকা হতে পারে ম্যাথুকে

মনোজ বার্মার কথায়, ‘‘রবিবার রাতে যখন কাঁকিনাড়া বাজার সংলগ্ন ৬ নম্বর রেলওয়ে সাইডিং এলাকায় আমাদের অভিযান চলছিল, সেই সময় তিনটি বালতিতে মজুত করা ৬০ টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। মোট ৮ জন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা। তবে বহিরাগতদের উপর সতর্ক নজর রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আগেই ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়া, নৈহাটিতে শান্তি ফেরাতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। ভয়ের পরিবেশ ক্রমশ কাটতে শুরু করেছে। দোকান, বাজার খুলেছে। অর্জুন সিং এদিন বলেন, ‘‘পুলিশকে এই এলাকায় সংযত আচরণ করতে হবে। পুলিশকে দেখলে মানুষ রেগে যাচ্ছে।’’