স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: দুপুরেই ‘অর্জুন’ বলে দলত্যাগী ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ককে আখ্যায়িত করেছেন বাবা৷ আর তার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ছেলের গলায় অন্য সুর৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের মুখে৷ জানালেন, বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী দু’লক্ষের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতবেন৷

তৃণমূল যুব সভাপতি দাবি করেছেন বারাকপুর আসনে দলীয় প্রার্থী এক লক্ষ নিরানব্বই বাদার নশো নব্বইয় ভোট পেলে জবাবদিহি করবেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসে শুভ্রাংশু রায় বলেন, ‘‘দল যদি দায়িত্ব দেয়, ব্যারাকপুর লোকসভায় দীনেশ দাকে সব চেয়ে বেশি লিড দেবে বীজপুর৷’’ একইসঙ্গে বীজপুরের বিদায়কের দাবি ‘‘অর্জুনবাবু গেছে যান। আমাদের সবাই মিলে দীনেশ ত্রিবেদীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’’

আরও পড়ুন: অষ্ট প্রহর নীতি নিয়ে ‘একলা চলা’র বার্তা প্রদেশ কংগ্রেসের

রাজনীতিতে শিবির আলাদা৷ কিন্তু সম্পর্কে মুকুল রায় ও শুভ্রাংশু পিতা-পুত্র৷ ২০১৭ সালের নভেম্বরে দল ছাড়ার পর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে ‘গদ্দার’ বলে সম্বোধন করেন৷ এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং৷

তবে এইভাবে পুরো বিষয়টিকে দেখতে নারাজ শাসক দলের যুবব বিধায়ক৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বাবা অন্য দলে যাওয়ার পর, আমাকে,আমার মাকে, স্ত্রীকে, এমনকী আমার ছ’বছরের মেয়েকেও গালিগালাজ শুনতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ যেন অর্জুনবাবুর স্ত্রীকে কটূক্তি না করেন। নারীজাতির সম্মান সবার আগে’’৷ কেন হটাৎ দলত্যাগী প্রসঙ্গে এত নরম মকুলবাবুর বিধায়ক পুত্র? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে৷

আরও পড়ুন: ‘গুরু’ মুকুল’কে আবার লুচি খাওয়াবেন ‘শিষ্য’ সব্যসাচী

হতে পারে ভিন্ন দল৷ দুই শিবিরের সম্পর্কও অহি-নকুল৷ কিন্তু দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন একই পরিবারের তখন রাজনীতির আলোচনাতো হয়ই? পোড় খাওয়া নেতার পুত্রের উত্তর, ‘‘“পিতা-পুত্রের সম্পর্ক। ফোনে খোঁজ নিই শরীর কেমন আছে, ইনস্যুলিন নিয়েছ কিনা, খেয়েছ কিনা, এটুকুই৷ রাজনীতির কোনও কথা আমাদের হয় না৷’’

মুকুল রায়ের তৃণমূল ত্যাগের পরপরই তাঁর তৃণমূল বিধায়ক ছেলের দল ছাড়া নিয়ে নানা জল্পনা ছিল৷ পরে, অবশ্য শুভ্রাংশু স্পষ্ট করেন তৃণমূলের থাকবেন তিনি৷ দলীয় সব বৈঠকেও উপস্থিত হন তিনি৷ পরে শরীর খারাপ হলে দলনেত্রীও দেখতে যান দলের এই যুব বিধায়ককে৷ এদিনও মুকুল পুত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন৷ বলেন, ‘‘মতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন নেত্রী থাকবেন, ততদিন আমি তৃণমূলেই থাকব’’৷ তাহলে দলের যুব সভাপতির প্রতি তাঁর আস্থা নেই? নিজের প্রশ্নের উত্তরে চটজলদি বীজপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘নেত্রী যাকে নেতা করে পাঠাবেন আমি তাঁকেই মানব।’