প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: এবার কী তাহলে সন্ন্যাস নেবেন যুব তৃণমূলের সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন বারাকপুরের প্রথম বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।

গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি শিবিরে নাম লেখান বারাকপুরেরে দাপুটে নেতা অর্জুন সিং। ঘাস ফুল শিবিরের দুর্দিনের এই সৈনিকের দলবদল ঘিরে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। মুকুলের পরে বারাকপুর এলাকার আরও এক দাপুটে নেতার বিজেপি শিবিরে নাম লেখানো ঘিরে দলের অন্দরেই শুরু হয় গুঞ্জন।

অর্জুনের দলবদলকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বারাকপুর কেন্দ্র থেকে দীনেশ ত্রিবেদী কমপক্ষে দুই লক্ষ ভোটে জিতবেন। এক লক্ষ ৯৯ হাজার ভোটেও হারবে না।” ক্ষমতা থাকলে বিজেপির টিকিটে অর্জুন সিং-কে দাঁড়ানোর কথাও বলেছিলেন অভিষেক। কার্যত সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে অর্জুন।

এদিন জয়ের পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জী বাচ্চা ছেলে। উনি বলেছিলেন, আমি আড়াই লক্ষ ভোটে না হারলে উনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। আমার ওনার কাছে প্রশ্ন, উনি ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন না সন্ন্যাস নেবেন?”

অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে বলে দাবি করেছেন অর্জুন সিং। এই রাজ্যে দলের সংগঠন মজবুত করতে কর্মীদের এবং বারাকপুরের শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বারাকপুরের সাংসদ। তাঁর কথায়, “রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আসছে দল আমাকে দ্বায়িত্ব দিলে আমি এমন সংগঠন গড়ে তুলবো দলের কর্মীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করবে কেউ লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বে না। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে হবে শ্রমিক দের পাশে আমি ছিলাম আছি থাকব।”

লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে ভাটপাড়ার বিধায়ক ছিলেন অর্জুন। সেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। ভাটপাড়া উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অর্জুন সিং-এর পুত্র পবন সিং। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকে। ভোটের আগের দিন থেকেই অশান্ত হয়ে রয়েছে ভাটপাড়া। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

জয়ের পরে পিতা-পুত্র

যদিও ওই কেন্দ্র থেকে জয়ের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন অর্জুন। বিজেপির টিকিটে ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মদন মিত্রকে ৩৫২৮১ ভোটে পরাজিত করেছেন পবন। জয়ের পরে তিনি বলেছেন, “অশান্ত ভাটপাড়া কে শান্ত করতে হবে, আক্রান্ত ভাটপাড়া বাসীর পাশে সব দিক দিয়ে আমরা আছি। আমি এবং আমার বাবা সবসময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করবো।”