মানব গুহ ও সুমন বটব্যাল, কলকাতা: পিতা-পুত্রকে নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় রাজ্যের শাসকদল৷ সূত্রের খবর, শাসকদলের সিংহভাগ নেতৃত্বই চাইছেন পুত্রও বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে দলত্যাগী হয়ে গায়ে চড়ান গেরুয়া নামাবলী৷ তাহলে রায় পরিবারের ক্ষমতা খর্ব করে এলাকায় তৃণমূল শাসন প্রতিষ্ঠা করা সুবিধা হবে৷ কিন্তু সে গুড়ে বালি! এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে ঘাসফুল শিবিরেই থাকছেন তিনি৷ ফলে শাসকদলের অস্বস্তি বেড়েছে বই কমেনি৷ অস্বস্তি এড়াতে তাই ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা’ তোলার পথে হাঁটতে চলেছেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব৷ সেই জন্যই আপাতত: ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুনকে সিংই বাপ-বেটার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য বেছে নিয়েছে শাসক দল৷

সূত্রের খবর, মুকুল রায় বিজেপিতে নাম লেখানোয় বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের ওপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব৷ তাই কাচরাপাড়ায় দলের ভাঙন রুখতে সংগঠন দেখভালের বাড়তি দায়িত্ব বর্তেছে ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংহ-র ওপর৷ প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই বর্ধমানের একটি সভায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, ‘‘অপেক্ষা করুন, কিছু দিনের মধ্যেই বাবা-ছেলের ‘গট-আপ’ গেম প্রকাশ্যে চলে আসবে৷ আমরা সবটাই নজরে রাখছি৷’’

রাজনৈতিক মহলের মতে, জ্যোতিপ্রিয়র বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট-তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব মুকুল তনয়কে সন্দেহের উর্ধে রাখছেন না৷ কাকতালীয় ভাবে এরপরই বিধানসভার অধিবেশন শেষে মুকুল তনয় শুভ্রাংশু সংবাদ মাধ্যমের কাছে আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘‘আমাকে কোনঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে৷ দলের কিছু মানুষই এই চেষ্টা করছেন৷’’ শুভ্রাংশুর স্বীকারোক্তি থেকেই স্পষ্ট, দলের একাংশের ওপর তিনি যথেষ্ট তিতিবিরক্ত৷ নাম না বললেও ঠারেঠারে শুভ্রাংশুর অভিযোগের তীর ছিল অর্জুন সিং এর দিকে৷

তৃণমূল সূত্রের খবর, নেতৃত্ব আশঙ্কা করছেন ‘দক্ষ রাজনীতিক’ মুকুল রায় নিজে বিজেপিতে গেলেও পুত্রকে এখনই বিজেপিতে নিয়ে যাবেন না৷ সেক্ষেত্রে তাকে দিয়ে কাচরাপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় গোপনে দলের ভাঙন ঘটিয়ে অবশেষে তিনি পুত্রর হাতে দেবেন পদ্মফুল৷ নাম প্রকাশ করব না এই শর্তে তৃণমূলের প্রথমসারির এক রাজ্য নেতার বক্তব্য, ‘‘আমাদের আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তাহলে তো সর্বনাশ কাণ্ড ঘটতে পারে দলের৷ এদিকে শুভ্রাংশু এখনই যদি দলত্যাগ না করেন, তাহলে তাঁকে জোর করে দল থেকে তাড়ানো মুশকিল৷ তাতে অন্য বার্তা যেতে পারে৷’’ দিদিমণিকে প্রণাম করে তরুণ তুর্কি শুভ্রাংশু রায়ের আর্শীবাদ নেবার ছবি এখনও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে প্রতিদিন দেখতে পাওয়া যায়৷

ওই নেতার বাড়তি সংযোজন, ‘‘তাই আমরাও পাল্টা চাল দিচ্ছি৷ শুভ্রাংশুকে কোনঠাসা করতে ওঁর এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে অর্জুন সিংহকে৷ একই সঙ্গে নেতা-কর্মীরা নানা ভাবে ওঁকে ক্রমাগত বিরক্ত করে চলবেন৷ যাতে ও নিজেই বাধ্য হয়ে দলত্যাগ করেন৷’’ তাঁর কথায়, ‘‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো৷’’

আসলে মুকুল রায় প্রভাবিত বিস্তারিত এলাকায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের তৃণমূলের ছাতার তলাতেই রাখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস৷ যেটা এখন মুকুল ও শুভ্রাংশুর শিবিরে ভাগাভাগি হয়ে আছে৷ শুভ্রাংশু দল ছাড়লেই যাতে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের পুর দলটা মুকুল-শুভ্রাংশুর বিজেপি শিবিরে না গিয়ে তৃণমূলের শিবিরেই থাকে তার জন্যই সচেষ্ট শাসক দল৷ এলাকার ক্ষমতা ধরে রাখাও এর অন্যতম কারণ৷ নিজের এলাকাতেই বাপ বেটাকে কোনঠাসা করে দেবার পরিকল্পনা ঘাসফুলের নেতাদের৷ তাই আপাতত: মুখের অস্ত্র হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অর্জুনকে৷

রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষ রাজনীতিক মুকুল রায়ই শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু৷ সেক্ষেত্রে তৃণমূল শিবিরের আশঙ্কা অমূলক নাও হতে পারে৷ কারণ, পুত্রের প্রশ্নে মুকুল রায় বারেবারেই বলেছেন, ‘‘শুভ্রাংশু সাবালক৷ ও কোন দল করবে- না করবে সেটা ওর ব্যক্তিগত বিষয়৷’’ যদিও মুকুল রায়ের বিজেপির সভার পাল্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় বক্তা হিসেবে নাম থাকলেও গরহাজির থেকেছেন শুভ্রাংশু৷ তারপর থেকেই শুভ্রাংশুকে সন্দেহের উর্ধে রাখছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব৷ তাঁদের আশঙ্কা, সবটাই মুকুল রায়ের ‘গেম প্ল্যান৷’’ অগত্যা, দলে মুকুল-ধ্বস রুখতে অর্জুন অস্ত্রেই শুভ্রাংশু কাঁটা তুলতে চাইছেন শাসক দলের নেতারা৷ যদিও এই ধরণের পরিকল্পনার কথা উড়িয়েই দিয়েছেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

এই পরিকল্পনায়, প্রথামিক ভাবে শুভ্রাংশুকে রাগিয়ে দলবিরোধী কথা বলানোই প্রথম কাজ৷ যাতে কমবয়সী নেতা রাগের মাথায় দলবিরোধী কথা বলেন এবং তৃণমূলের পক্ষে তাকে তাড়ানোর রাস্তা সহজ হয়৷ এখন কাচড়াপাড়ার বাপ বেটার বিরুদ্ধে ভাটপাড়ার অর্জুন আর কি কি অস্ত্র প্রয়োগ করেন সেটাই দেখার৷ তবে, এই যুদ্ধে একদমই মাথা গলাতে রাজী নন তৃণমূলের বাকি নেতা বিধায়করা৷ আগামী দিনে, ‘রায়’ বনাম ‘সিং’ এর এই লড়াই রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্তরেও নামতে চলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের৷ ভাটপাড়ার অর্জুন মহাভারতের ‘সব্যসাচী’ হয়ে দুহাতে বাপ বেটা দুজনকেই কতটা লড়াই দেন সেটাই এখন দেখার৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।