স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: পুরসভার আসন সংরক্ষণ নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করলেন বিরোধিরা। জানা গিয়েছে,দুইদিন আগে বালুরঘাট পুরসভার এলাকা সম্প্রসারণ ও আসন রক্ষণের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় চকভৃগু পঞ্চায়েত এলাকার আটটি গ্রাম সভাকে পুরসভার অন্তর্ভুক্তি করে সেখানে তিনটি ওয়ার্ড করা হয়েছে। এলাকার সম্প্রসারণ ঘটলেও পুরসভার একটিও আসন বাড়ানো হয়নি। উল্টে পুরাতন এলাকার ছ’টি ওয়ার্ডকে ভেঙে তিনটি করা হয়েছে। আর এই সদ্য প্রকাশিত রিজার্ভেশন রোস্টারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধিরা।

সূত্রের খবর, গত ১৭ অক্টোবর বালুরঘাট পুরসভা এলাকার সংরক্ষিত আসন তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। অভিযোগ, নিয়ম থাকলেও এই তালিকায় ৪০শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ মানা হয়নি। এমনকি এসএসটি সংরক্ষণেরও তোয়াক্কা করা হয়নি। শুধু তাই নয় নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত দুই নম্বর রোস্টারও মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলগুলি।

জানা গিয়েছে, আগামী পুরসভা নির্বাচনে নিজেরা প্রার্থী হওয়ার পথ খোলা রাখতেই শাসক দলের নেতারা প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে এমনটা করিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধিরা। ইতিমধ্যেই যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি ও বামেরা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি। যদিও বিরোধিদের করা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

এই বিষয়ে বালুরঘাটের সাংসদ বিজেপির সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, পুরোটাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে অমান্য করা হয়েছে। কমিশনের দুই নম্বর রোস্টার মহিলা সংরক্ষণের নিয়ম পুরোপুরি মানা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আগের বার একনম্বর রোস্টার মেনে একটি আসন এসটি মহিলার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এবারেও সেটি একই ভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। যা সম অবৈধ বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। একই অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন চেয়ারপার্সন তথা আরএসপির নেত্রী সুচেতা বিশ্বাসও।

এদিকে তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি দেবাশীষ মজুমদার জানিয়েছেন বালুরঘাট পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের রূপরেখা পুর্বতন দলীয় সভাপতি যিনি বর্তমানে বিজেপি সম্পদ বলে গণ্য হয়েছেন। তাঁর নির্দেশেই আগের পুরোবোর্ড থাকাকালীনই তৈরি হয়েছিল। এক্ষেত্রে অহেতুক তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এলাকার মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।