স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: সরকারী পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠলো বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের লোকেরা ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তাদের উপরে বোমাবাজি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলারও অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ও বোমার আঘাতে জখম হয়ে চারজন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সোমবার ভোরবেলায় ঘটনাটি ঘটেছে, গঙ্গারামপুর থানার সুকদেবপুর এলাকায়। যদিও পুরো অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়েছে বিজেপি। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকদেবপুর পঞ্চায়েতের দেবীপুর আদিবাসী পাড়ার সরকারি একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামবাসীরা মিলিত ভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। অভিযোগ, গত লোকসভা নির্বাচনে পর থেকেই বহিরাগত কিছু লোক গ্রামের সেই পুকুরে জাল নামিয়ে তা নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। আদিবাসীরা তাতে বাধা দিতে গেলে রাতের অন্ধকারে প্রায়ই কারও না কারও বাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনা ঘটে চলছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহিরাগত হামলাকারীরা সকলেই বিজেপির মদতপুষ্ট।জানা গিয়েছে, হামলার এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা নিজেরাই পুকুরের চারপাশে বাল্ব জ্বালিয়ে রাতে পুকুর পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। অভিযোগ সোমবার ভোরবেলায় দুষ্কৃতীরা গ্রামে ঢুকে পুকুরে জাল ফেলার চেষ্টায় বাল্ব গুলি ভেঙে দেয়। গ্রামের মানুষজন তা টের পেয়ে রুখে দাঁড়ালে দুষ্কৃতীরা তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনায় গ্রামবাসীদের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তাঁদের গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করলেও অভিযুক্তদের কাউকেই এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্তকর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের নিকোলাস হেমরম জানিয়েছেন, যে পঞ্চায়েতের ওই পুকুরটিতে গ্রামের আদিবাসীরা মিলিত ভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বিজেপি লোকেরা বহিরাগতদের দিয়ে পুকুরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। গ্রামের মানুষ তাতে বাধা দেওয়ায় বিজেপির লোকেরা তাঁদের উপর মারধোর ও হামলা চালিয়েছে বলে তৃণমূলের পূর্তকর্মাধ্যক্ষ অভিযোগ করেছেন।

এদিকে এই ঘটনায় দলীয় কেউ জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘যে পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জের মাত্র’। তিনি আরও বলেন, শুধু দেবীপুরেই নয়। দক্ষিণ দিনাজপুরে সরকারি এমন বহু পুকুর রয়েছে যেগুলি তৃণমূলের লোকেরা বেআইনি ভাবে নিজেদের দখলে রেখেছেন।