কলকাতা: করোনা আবহেও বঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিজেপির ৪ সাংসদ-সহ ২১ নেতা নাকি যোগাযোগ রাখতে শুরু করেছেন তৃণমূলের সঙ্গে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি আস্থা না থাকার জেরেই নাকি তাঁদের এই ভোলবদল বলে সূত্রের খবর।

যদিও সংবাদমাধ্যমের এই খবরে আমল দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘বাংলায় বিজেপির উত্থানে ভয় পেয়েছে তৃণমূল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই গেরুয়া শিবিরে অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের’।

কয়েকদিন ধরেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে জল্পনা তৈরি হয়। সেই জল্পনা আরও তীব্র হয় মুকুল রায়ের দিল্লির বৈঠক এড়ানোর ঘটনায়। দিল্লিতে থেকেও দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহাদের সঙ্গে বৈঠকে থাকেননি মুকুল রায়। কলকাতায় ফিরে তিনি জানান, চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ফিরে এসেছেন।

যদিও তাঁর সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরির খবর রটে যাওয়ায় পরে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন মুকুল নিজেই। সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিজেপিতে তিনি খুশি আছেন। তাঁর সঙ্গে দলের কারও বিরোধ নেই।

এদিকে, সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবর ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমটির দাবি, বাংলা থেকে জেতা বিজপির চার সাংসদ-সহ ২১ নেতা নাকি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। দলের রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা থাকার জেরেই নাকি তাঁদের এই ভোলবদল।

বাংলা থেকে প্রথমবারের জন্য নির্বাচিত হওয়া এক বিজেপি সাংসদের বক্তব্য এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংবাদমাধ্যমকে ওই বিজেপি নেতা জানান, বাংলায় বিজেপি নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। দলে দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়ের আলাদা শিবির রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সব জেনেও কোনও পদক্ষেপ করছে না।

ওই বিজেপি নেতা আরও জানান, দিলীপ ঘোষকে রাজ্য বিজপির অনেক নেতাই পছন্দ করেন না। তাঁর ক্ষুরধার বক্তব্য অনেকের না-পসন্দ। বিশেষ করে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের প্রতি তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গী এই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকী খোদ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষও দলে মতপার্থক্যের কথা মানতে চাননি।

তাঁর কথায় ‘বাংলায় বিজেপির উত্থানে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। গুজব ছড়িয়ে দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছে। এরাজ্যে সব বিজেপি নেতা ও সাংসদরা একত্রিত রয়েছেন। কোথাও কোনও মতপার্থক্য নেই।’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও