আরাকু ভ্যালি

পূর্বঘাট পর্বতমালার কোলে ৩১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত আরাকু ভ্যালি ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা৷ পাহাড়ের কোল জুড়ে নানান আদিবাসী গ্রাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ৷ বাঙালি পর্যটকরা সাধারনত হায়দ্রাবাদ-ভাইজ্যাক ঘুরে আরাকু ভ্যালি দেখে নেন ৷ অনেকে আরাকু ভ্যালি ঘুরে দিনে দিনে ফিরে যান বিশাখাপত্তনম৷ তবে শান্ত, নির্জন, মনভোলানো পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আরাকু ভ্যালিতে একরাত কাটানো ভালো৷

ভাইজ্যাগ থেকে ১১৫ কিমি দূরে, পূর্বঘাট পর্বতের সবুজ উপত্যকার মধ্যে এক অনবদ্য ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হল আরাকু ভ্যালি। ভাইজাগ থেকে আরাকু যাওয়ার জন্য বাস, সেয়ারিং ক্যাব, রিজার্ভ গাড়ি অথবা ট্রেন সব রকম ব্যাবস্থা আছে।তবে বিশাখাপত্তনম স্টেশন থেকে, আরাকু প্যাসেঞ্জার করন্ডল এক্প্রসে যাওয়ার পথটি খুবই রোমাঞ্চকর।

দর্শনীয় স্থান:

বোরা কেভস: পূর্বঘাট পর্বতমালার অনন্তগিরি রেঞ্জে অবস্থিত, ভারতবর্ষের দীর্ঘতম গুহা এই বোরা কেভস। চুনাপাথরের তৈরি এই গুহাটির দৈর্ঘ্য ৭০৫ মিটার এবং গভীরতা ৮০ মিটার। দশলক্ষ বছরের পুরানো এই গুহার মধ্যে দেখতে পাবেন, চুনাপাথরের তৈরী স্ট্যালাগটাইট, স্ট্যালাগমাইট, স্তম্ভ প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ, তবে অনেকগুলি সিঁড়ি ভেঙে তবেই পৌঁছানো যায়।

গলিকন্দা ভিউ পয়েন্ট: বোরা গুহা থেকে আরাকু যাওয়ার পথে, অনন্তগিরি কফি গার্ডেনের কাছে অবস্থিত ভাইজ্যাগ তথা আরাকু ভ্যালির অন্যতম দ্রষ্টব্য এই ভিউ পয়েন্ট।ভিউ পয়েন্টের রেলিঙে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা হবে দূরে সবুজ চাদরে মোড়া উপত্যকায়।

আরাকু মেন টাউন ওখানে আদিবাসি মিউজিয়াম দেখেতে বেশ ঘন্টা খানেক সময় লাগবে।  আরাকুতে হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানির প্রচুর ভালো রেস্তোরাঁ আছে সেখানে গিয়েও খেতে পারেন।

আরাকু ভ্যালির কাছের রেল স্টেশন হল বিশাখাপত্তনম৷ বিশাখাপত্তনম থেকে আরাকু ১১৫ কিলোমিটার৷ হাওড়া, সাঁতরাগাছি ও শালিমার স্টেশন থেকে বিশাখাপত্তনম যাবার প্রচুর ট্রেন রয়েছে৷ চেন্নাই ও হায়দ্রাবাদ গামী প্রায় সব ট্রেনই যায় বিশাখাপত্তনম হয়ে প্রধান প্রধান কয়েকটি ট্রেন হল – ফলকনামা এক্সপ্রেস, চেন্নাই মেল, যশবন্তপুর এসপ্রেস, করমন্ডল এক্সপ্রেস প্রভৃতি সময় লাগে ১৩ – ১৬ ঘন্টার মত৷ বিশাখাপত্তনমে একটি বিমান বন্দর রয়েছে৷

ভাইজ্যাক

ভাইজ্যাক নামটি শুনলেই পাহাড়, সাগর আর নারকেল গাছের কথা মনে পড়ে l ব্রিটিশদের ওয়ালটেয়ার আজকের ভাইজ্যাক বা বিশাখাপত্তনম l বর্তমানে বন্দরনগরী হলেও বেশ কয়েকটি সুন্দর বীচ আর পূর্বঘাট পর্বতমালার রূপ বিশাখাপত্তনমকে করেছে অন্ধ্রপ্রদেশকে অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র l ভারতের প্রথম দশটি পরিচ্ছন্ন শহরের মধ্যে এটি অন্যতম l

বিশাখাপত্তনমের প্রধান আকর্ষণ হল এখানকার অনেকগুলি বিচ বা সমুদ্রসৈকত l শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিচটি হল রামকৃষ্ণ বিচl সুন্দর করে বাঁধানো সমুদ্রের পাড় আর শহরের প্রাণকেন্দ্রের কাছে হওয়ায় প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে সারা বছর৷ সৈকতের ধারেই আছে বেশ কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থান৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আই এন এস কুরুসাওয়া সাবমেরিন আর বিশাখা মিউজিয়াম৷ এটি ভারতের একমাত্র সাবমেরিন মিউজিয়াম৷ নৌসেনারা কিভাবে সাবমেরিনে দিন কাটায় তা দেখা যায় এই মিউজিয়ামে৷ সোমবার বন্ধ থাকে এই মিউজিয়াম৷ রামকৃষ্ণ বীচে মত্স্যদর্শিনী নামের একটি মাছের মিউজিয়াম আছে l বিভিন্ন ধরনের মাছ দেখা যায় এখানে৷ আছে বিভিন্ন ধরনের কচ্ছপও৷ বিশাখাপত্তনমের সুন্দরতম বিচ হল ঋষিকোন্ডা বিচ l পূর্বঘাট পর্বতের খাঁজে অর্ধচন্দ্রাকৃতি একটি সুন্দর সৈকত হল এই ঋষিকোন্ডা বিচ l

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।