বিশেষ প্রতিবেদন: রোহিঙ্গারা তাদের কাছে চরম শত্রু। তাদের তাড়িয়েই মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে (পূর্বতন আরাকান) পৃথক স্বশাসিত এলাকা তৈরি করতে চায় সশস্ত্র আরাকান আর্মি।

লড়াইটা এখানে ত্রিমুখী- মায়ানমার সেনা, আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসার মধ্যে। তিনপক্ষ একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেছে।

ক্রমে শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এমনই রিপোর্ট দিয়েছে মায়ানমারের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। বিবিসি, এপি সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, দেশটির উত্তর এলাকায় অবস্থিত কাচিন প্রদেশ। সেখানেই ঘাঁটি শক্তিশালী করেছে আরাকান আর্মি।

কাচিন প্রদেশের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে ভারত ও চিনের সীমান্ত। গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্ট, এই এলাকাতেই উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি অতি সক্রিয়। বিশেষ করে অসমের জঙ্গি সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা)।

রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে বাংলাদেশের লাগাতার কূটনৈতিক ধাক্কায় কোণঠাসা মায়ানমার সরকার। দেশটির সর্বচ্চো প্রধান সু কি-কেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গড়িমসি করছেন তা নিয়েও চলছে সমালোচনা। এদিকে বাংলাদেশ সরকার চায় চট্টগ্রামে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গাকে অবিলম্বে মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে।

এই পরিস্থিতিতে মায়ানমারের কাচিন প্রদেশে বড়সড় শক্তি সঞ্চয় করছে রোহিঙ্গা বিরোধী আরাকান আর্মি। এই এলাকায় তারা বিভিন্ন শিবির স্থাপন করে মিলিটারি ট্রেনিং দিতে শুরু করেছে বলেই খবর।

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, কাচিনে শক্তিশালী সংগঠন হল আরাকান আর্মির ঘনিষ্ঠ কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির। ২০০৯ সালে আরাকান আর্মি তৈরি হওয়ার পর থেকেই এলাকায় লাগাতার নাশকতায় জড়িত সংগঠনটি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে সংবাদ মাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, আরও বেশি এলাকা নিজেদের দখলে আনতেই তাদের লড়াই চলছে।

এক নজরে আরাকান আর্মি:

১. ২০০৯ সালে তৈরি হয় এই সশস্ত্র সংগঠন। ২. লক্ষ্য – মায়ানমারের উত্তরাংশে বৌদ্ধ প্রভাবিত এলাকায় নিজেদের স্বশাসন। ৩. মূলত রোহিঙ্গাদের সঙ্গেই বিরোধিতা। ৪. আরাকান আর্মির প্রতিপক্ষ মায়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার। তবে মায়ানমার সেনার সঙ্গেই বেশি সংঘর্ষ হয় সংগঠনটির। ৫. চিন সীমান্তের কাছে কাচিন প্রদেশের লাইজা এলাকা হল আরাকান আর্মির সদর দফতর। ৬. ১০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে ঝটিকা বাহিনি তৈরি করে রেখেছে এই সশস্ত্র সংগঠন। ৭. ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমারের সীমান্তে মিশে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবাধে যাতায়াত করে আরাকান আর্মির সদস্যরা।