জয়পুর: একটানা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যার ফলে রাজস্থানের চিত্তগড়ের একটি সরকারি স্কুলে আটকে পড়ল প্রায় সাড়ে তিনশোজন পড়ুয়া। জানা গিয়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে বন্যার ফলে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় স্কুলের ভিতরে আটকে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকেরা। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সাড়ে তিনশো পড়ুয়া এবং পঞ্চাশ জন শিক্ষক মিলিয়ে মোট চারশোজন লোক আটকে আছে ওই স্কুলটিতে।

গত শনিবার ভারতীয় মৌসম ভবন আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় অর্থাৎ রবিবার রাজস্থানের দক্ষিণ অংশে ভারী থেকে অতিভারি বৃষ্টি হওয়ার কথা শুনিয়েছিল। তবে শনিবার থেকেই প্রবল বর্ষণে ভাসছে দক্ষিণ রাজস্থানের প্রতাপগড় জেলা সেই সঙ্গে যুক্ত আছে নদী গুলির বন্যার জল। যার ফলে দক্ষিণ রাজস্থানের প্রতাপগড়, চিত্তগড়ের রাস্তার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল।

জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে দক্ষিণ রাজস্থানের প্রতাপগড় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে মাহি এবং যাখাম নদী। বর্তমানে এই দুটি নদীর জল স্বাভাবিক সীমায় বইলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে, নদী তীরবর্তী এই সব জেলাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেই খবর।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে,অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার কারনে, দক্ষিণ রাজস্থানের রানা প্রতাপ বাঁধ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। যারজন্য ওই স্কুল থেকে বেরনোর সমস্ত রাস্তায় জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। যারফলে স্কুল ক্যাম্পাসের ভিতরে আটকে পড়েছে পড়ুয়া থেকে ওই স্কুলের মাস্টার- দিদিমনিরা। জানা গিয়েছে, আটকে পড়া পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের সরবরাহ করা খাবার এবং জল খেয়েই আপাতত বন্ধ স্কুলেই রাত কাটাতে হয়েছে তাঁদের।

একই অবস্থা মধ্যপ্রদেশেরও। শনিবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে গান্ধিসাগর বাঁধ থেকে জল ছাড়ে অন্ধ্রপ্রদেশ। যার ফলে শনিবার থেকে নিমুচ জেলার চম্বল নদীতে বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইতে থাকে নদীর জল। গান্ধিসাগর বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলাগুলিতে পুনরায় বন্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তরফ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সবসময় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনা এড়ানো যায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গঙ্গা এবং যমুনা নদীর জল ফের বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে যারফলে প্রয়াগরাজের তুলনামূলক ভাবে নিচু অংশগুলিতে বন্যা দেখা দিতে পারে।