পূজা মণ্ডল, কলকাতা : মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে এবছরের মাধ্যমিকের ফলাফল। ১১ বছর বয়সে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে হাওড়ার আমতার মেয়ে সইফা খাতুন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মাধ্যমিকের ইতিহাসে এটিকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে আখ্যা দিয়ে ফেলেছেন সকলে। সেই সঙ্গে সইফার মেধার প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজ্যে এবছর মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় থাকা কৃতিরাও।

কিন্তু সইফার দাবি মাধ্যমিকে সে পাশ করলেও তার আশানুরূপ নম্বর সে পায়নি। তাই ক্ষোভে সইফার নম্বর প্রকাশ্যেই আনলেন না তার বাবা সেখ মহম্মদ আইনুল। নম্বর পুনরমুল্যায়ন করতে চেয়ে এদিন পর্ষদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সইফা নিজে।

এদিন মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশ হতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সইফার বাড়িতে। রাজ্যে কৃতিদের পাশাপাশি সংবাদ চ্যানেলের হট সিটে জায়গা করে নেয় ১১ বছর বয়সে মাধ্যমিক দেওয়া সইফা। কিন্তু সইফার দাবি পর্ষদ তাকে যে নম্বর দিয়েছে, তা মোটেই তার প্রাপ্য নম্বর হতে পারে না। নম্বর পুনর্মূল্যায়ন করবে জানিয়ে পর্ষদ সভাপতিকে প্রকাশ্য চ্যলেঞ্জ জানায় সে।

সইফা জানায় সে ৯০% এরও বেশি নম্বর পাবে। তাই ক্ষোভে এদিন অগণিত সংবাদ মাধ্যমের ভিড়েও নিজের নম্বর প্রকাশ্যে আনেনি সইফার পরিবার। তাদের দাবি সইফার সঠিক নম্বর হাতে পেলে তবেই সেই নম্বর সংবাদমাধ্যমের সামনে আনবেন তাঁরা। সইফার বাবা kolkata 24×7কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, “সইফা যে নম্বর পেয়েছে তা আসল নম্বর নয়। তাই তিনি কোন সংবাদ মাধ্যমের কাছেই সইফার নম্বর প্রকাশ্যে আনেন নি। নম্বর পুনর্মূল্যায়নের পর আসল নম্বর প্রকাশ্যে আসলে তিনি সেই নম্বর সংবাদ মাধ্যমকে জানাবেন।”

এই প্রসঙ্গে পর্ষদ সভাপতি কল্যানময়বাবু এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, সে চাইলে নম্বর রিভিউ করতে দিতে পারে, কেউ বঞ্চিত হবে না।

১৬ বছরে মাধ্যমিক দেওয়ার নিয়ম। তবে কেউ কেউ ১৫ বছরেও মাধ্যমিক দিয়ে থাকেন। কিন্তু ১১ বছর বয়সে কিভাবে মাধ্যমিক দিতে পারল সইফা? সেই প্রসঙ্গে জানা যায়, ৬ বছর বয়সেই মাধ্যমিকের সিলেবাস সম্পূর্ণ করে ফেলেছিল সইফা। তাই মাধ্যমিক দেবে বলেই মনস্থির করে বসে সে। তাই কোন স্কুলে সইফাকে ভরতি করান নি তার বাবা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মেয়ের মাধ্যমিক দেওয়ার ব্যপারে আর্জি জানান সইফার বাবা। আগেও জানিয়েছেন, কিন্তু এবছরই তার আর্জি মঞ্জুর হয়। তখনই পর্ষদ তাকে অনুমতি দেয় পরীক্ষায় বসবার। তবে এর জন্য সইফাকে পর্ষদের বিশেষ পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। তাঁতে উত্তীর্ন হওয়ার পরই সইফা মাধ্যমিক দেওয়ার ছাড়পত্র পায়।

বাবাই ছিলেন সইফার এই সফরে সাফল্যের কাণ্ডারী। পেশায় চিকিৎসক সইফার বাবা মেয়ের পড়াশুনোয় সাহায্য করেছেন। তাই বাইরে থেকে আলাদা করে কোচিং নিতে হয় নি তাকে। সইফার প্রিয় বিষয় জীবন বিজ্ঞান। দিনে ৩-৪ ঘণ্টা পড়াশুনো করত সে। কবিতা লিখতে ভালবাসে সইফা। ভালবাসে আঁকতেও। ২ বছর বয়স থেকে ইংরাজি খরের কাগজ পড়ত। ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় সইফা। ডাক্তার হয়ে গরীব মানুষদের চিকিৎসা করতে চায়।