দেহরাদুন: রোহিত শেখর তিওয়ারির হত্যার পর থেকে তার স্ত্রী অপুর্বা শাশুরির উপর চাপ সৃষ্টি করছিল৷ সংবাদমাধ্যম ‘অমর উজালায়’ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অপুর্বা তার শাশুরিকে তার পক্ষ নিয়ে কথা বলার জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে রোহিতের মা উজ্জ্বলা দেবি জানান৷

প্রকাশিত এই খবর অনুযায়ী রোহিতের পরিবার তার অস্তি বিসর্জনের জন্য হরিদ্বার গিয়েছিল৷ সেখানে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিল অপুর্বা৷ সেই কারনেই সে রোহিতে মা কে ডোড় করছিয় যেন সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি অপুর্বার পক্ষ নিয়ে কথা বলে৷

রোহিতের মা জানিয়েছেন তিনি অপুর্বাকে বিষ্বাস করেছিল৷ তার মনে হয়েছিল রোহিতের খুনের ঘটনার সঙ্গে অপুর্বার কেনও সম্পর্ক নেই৷ তবে অপুর্বা তার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে জানায় রোহিতের মা৷

অন্যদিকে অপূর্বার ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিল দিল্লির আদালত৷ এদিন আদালতে পুলিশ জানায় অভিযুক্তকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের আর প্রয়োজন নেই৷ তারপরই ধৃত অপূর্বাকে জেলে পাঠায় চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দীপক শেরঅন্ত৷

চলতি মাসের ১৫ তারিখ রাতে খুন হন বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা এন দত্ত তেওয়াড়ির ছেলে রোহিত শেখর তেওয়ারি৷ কে তাকে খুন করতে পারে তার তদন্তে নামে পুলিশ৷ সন্দেহের তির ছিল স্ত্রী অপূর্বার দিকে৷ পরে তদন্তে নেমে অপূর্বাকে গ্রেফতার করা হয়৷

জানা গিয়েছে পুলিশি জেরায় ধৃত অপূর্বা স্বীকার করে নিয়েছেন সেই স্বামীকে খুন করেছে৷ বরের সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতেই খুন বলে জানায় সে৷ তিনি পুলিশকে বলেছেন, রোহিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ ছিল। স্বামীর জন্য তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর দিনও স্বামীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। একসময় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বামীর গলা টিপে ধরেন। রোহিত তখন মদ্যপান করছিলেন। তিনি বাধা দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না৷

তবে প্রথমে অপূর্বা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘১৬ এপ্রিল রাতে রোহিত নিজের ঘরে শুয়ে পড়েছিলেন। পরে তিনি অপূর্বাকে ডাকেন। তার কথায়, পায়ের যন্ত্রণার জন্য অপূর্বা স্বামীর সেবা করছিলেন। পরে সেই ঘর থেকে চলে যান তিনি। পুলিশ তাঁর কাছে জানতে চায়, স্বামী দিনের বেলায় অতক্ষণ শুয়ে আছেন দেখেও কেন তাঁর সন্দেহ হলনা?

পুলিশ দিল্লির অভিজাত ডিফেন্স কলোনির সব সিসিটিভি দেখে বুঝতে পারে, খুনের দিন বাইরে থেকে কেউ রোহিতের ফ্ল্যাটে ঢোকেনি। অর্থাৎ বাড়ির কেউ খুন করেছে। রোহিতের মা উজ্জ্বলা তেওয়ারি পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলের সঙ্গে বউয়ের বনিবনা হত না। দু’জনে আলাদা ঘরে থাকতেন।