পুলিশি উদাসীনতার জেরে ছ’মাস আগে মৃত ছেলের খবরই পেলেন না বাবা!

0

শ্রেয়া কুণ্ডু, শিলিগুড়ি: পুলিশের গাফিলতির জেরে ছ’মাস আগে ছেলের মৃত্যু হলেও জানতেই পারেনি পরিবার। ছেলের ভাড়া নেওয়া রিক্সার মালিকের নিখোঁজ ডায়েরি হলেই পড়ল হুলুলথুলুস৷

সম্প্রতি রিক্সা মালিক জানতে পারেন, এক সাফাই কর্মীকে বাচাতে গিয়ে ৬ মাস আগে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় রিক্সা চালক দিলীপ রায়ের৷ অভিযোগ, পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধারের পর ব্যক্তির নাম ঠিকানার খোঁজে তেমন তাগিদ না দেখিয়ে পাঠিয়ে দেয় মর্গে। রিক্সাটিকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়ি প্রধান নগর থানায়। অথচ রিক্সার নম্বর সূত্র ধরে মালিকের খোঁজ করে অনায়াসে দিলীপের পরিবারের কাছে পৌঁছতে পারত পুলিশ। কিন্তু তা না করায় কাওয়াখালির বাসিন্দা সুনীল রায় এতদিন জানতেই পারেনি তাঁর ছেলে মৃত। গত মে মাসের প্রথম দিকে শিলিগুড়ি চম্পাসারিতে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। দুই কুয়ো সাফাই কর্মী কুয়ো সাফাই করতে নেমে কুয়োর গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে সেই সময় এগিয়ে আসে এক রিক্সা চালক। তিনি ছুটে আসেন এবং কুয়োয় নেমে পড়েন। ঘটনাচক্রে তিনজনেরই মৃত্যু হয়। বাকি দুই জনের নাম পরিচয় পুলিশ সূত্রে সেই সময় পাওয়া গেলেও রিক্সা চালকের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলেই প্রধান নগর থানার পুলিশ সেই সময় জানিয়েছিলেন। অথচ ছ’মাস পরে কাওয়াখালির বাসিন্দা সুনীল রায় এতদিন পরে জানতে পারে সেই ঘটনায় মৃত রিক্সা চালক আসলে তারই ছেলে দিলীপ।

সুনীল বাবু জানান, ছেলে ডাবগ্রাম এলাকায় একাই ভাড়া থাকত। কাওয়াখালির বাড়িতে আসত। সুজিত ঘোষ নামে মিলন পল্লির এক বাসিন্দার রিক্সা চালাত দিলীপ। তবে, মাঝে মধ্যে কেরলে কাজের সন্ধানেও যেত সে আর সেখানে ৬-৭ মাস উপার্জন করে ফিরে আসত। তাই ছ’মাস ধরে ছেলে তাদের বাড়িতে আসছে না দেখে খুব বেশি চিন্তা হয়নি সুনিলবাবুর। কিন্তু রিক্সা মালিক সুজিত ঘোষ রিক্সা সহ দিলীপ গায়েব হয়ে যাওয়ায় বাবু সুনীল বাবুর কাছে এসে দিলীপের খোঁজ না পেয়ে ৪ মাস আগে শিলিগুড়ি থানায় রিক্সা হারানোর পেছনে দিলীপকে দায়ী করে একটি অভিযোগ দায়ের করে। এইভাবেই কেটে যায় আরও কয়েকমাস। এরপর গত শনিবার কনস্টেবল তাকে জানায় তার রিক্সা প্রাধান নগর থানায় পড়ে রয়েছে।আর তিনি জানতে পেরেছেন এই রিক্সার চালক মারা গিয়েছে কুয়ার গ্যাসের ঘটনায়। এরপরে সুজিত ঘোষই সুনীল বাবুকে সব জানান। সুনীল বাবু জানান, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের দু’জন মর্গ কর্মীদের সঙ্গে তার  পরিচয় থাকায় তাদের সব জানান। কিন্তু ওই মর্গ কর্মীরা খোঁজ নিয়ে তাকে জানায় ঘটনাটি অনেকদিনের হয়ে যাওয়ায় দেহটিকে সৎকার করে দেওয়া হয়েছে।

সুনীল বাবু জানান, রিক্সার সূত্র ধরে মালিকের খোঁজ করে পুলিশ তার ছেলের নাম ঠিকানা পেতেই পারত। কিন্তু পুলিশ এই ব্যাপারে কোন আগ্রহই দেখায়নি। এমনকি একজন রিক্সা মালিক চালক সহ রিক্সা গায়েবের অভিযোগ দায়ের করলেও সময়মতো সেটিরও খোজ করেনি পুলিশ। সুনীল রায় বলেন, ‘‘একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলে মারা গেল৷ অথচ নিজের সন্তান হাতে শেষ আগুনটাও পেল না ছেলে।’’

পুলিশের এই ধরনের গাফিলতি প্রসঙ্গে কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সেই সময় তিনি শিলিগুড়ি কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে আসেননি। তাই এই মুহূর্তে এই ব্যাপারে তার জানা নেই৷ তবে তিনি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখছেন।