তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শুধুমাত্র পড়াশুনার ‘ইঁদুর দৌড়ে’ অংশগ্রহণ নয়। শহরে বসবাসকারী পড়ুয়াদের ক্রীড়াক্ষেত্রে আগ্রহী করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া জেলা জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘ। জেলা ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা নেওয়া এই সংস্থার উদ্যোগে শহরের মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীদের নিয়ে পাঁচ দিনের ‘অনাবাসিক শারীরশিক্ষা শিক্ষণ শিবির রবিবার শেষ হলো। শিবিরে মোট ১৬৫ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে৷

পাঁচ দিনের এই ‘অনাবাসিক শিবিরে’ অ্যাথলেটিক্স, জিমন্যাস্টিক, কবাডি, খো খো, যোগব্যায়াম, ব্রতচারী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই শিবিরে অংশ নিতে পেরে খুশি সংশ্লিষ্ট ছাত্রীরাও।

শিবিরের শেষ দিনের সহপাঠী বন্ধুদের সঙ্গে বসন্ত উৎসবে অংশ নিয়ে শুভশ্রী দত্ত নামে ছোট্ট এক অংশগ্রহণকারী জানায়, এই ক’দিন তাদের খুব আনন্দে কেটেছে। কাবাডি, খোখো সহ বেশ কিছু খেলা তারা যেমন শিখেছে তেমনি সবার সাথে গানে, গল্পে, মজায় দিন গুলো ভালোই কেটেছে। আগামী দিনে এই ধরণের শিবিরে তারা প্রত্যেকেই অংশ নেবে বলে সে জানায়।

আয়োজক সংস্থা বাঁকুড়া জেলা জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘের সম্পাদক রবীন মণ্ডল বলেন, শহরে বসবাসকারী ছাত্রীদের খেলাধূলা ক্ষেত্রে আগ্রহী করে তুলতেই এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। গত পাঁচ দিন ধরে তাদের অ্যাথলেটিক্স, জিমন্যাস্টিক, কবাডি, খো খো, যোগব্যায়াম, ব্রতচারী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো।

প্রথম দিন যখন তারা এই শিবিরে যোগ দিয়েছিল আর আজ শেষ দিনে তাদের ‘পারফরম্যান্সে’র আকাশ পাতাল ফারাক। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ছাত্রীরা যাদের এই অনুশীলন ধারাবাহিকভাবেই চালিয়ে যাবে।

বাঁকুড়া গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীনবন্ধু ভীষণ বলেন, শহুরে ছাত্র ছাত্রীরা একেবারে ছোটো থেকেই পড়াশুনার চাপে শরীরচর্চা নিয়ে আগ্রহ দেখাবার একেবারে সময় পায়না। এই সময়টাতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে ছাত্রীদের স্কুলে দৈনন্দিন ক্লাস বন্ধ আছে। তাই এই সময়টাতে বসে না থেকে আমরা স্কুলের মাঠে নিয়ে এসে তাদের শরীর চর্চার পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের এই বিষয়ে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।

পাঁচ দিনের এই শিবিরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসীম নন্দী, দেবাশিস দত্ত, সন্তোষ দাস চক্রবর্ত্তী, পম্পা গরাই, সুজাতা রজক, সব্যসাচী ঘোষ, কাঞ্চন চক্রবর্ত্তী, অশ্বিনী ধবল প্রমুখ।