নয়াদিল্লি:দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিল ৷ কারণ বুধবার সরকারি তথ্য বলছে জানুয়ারিতে মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৫৯ শতাংশ যা ৬ বছরের সর্বোচ্চ খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি। পাশাপাশি শিল্পোৎপাদনে সঙ্কোচন এবং দেশে বেকারির হার ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গিয়েছে ।

কয়েকদিন আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, এদেশের অর্থনীতিকে এখনও আইসিইউয়ের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে এবং একজন অযোগ্য ডাক্তারকে তার দেখ ভাল করার ভার দেওয়া হয়েছে ৷ যদিও পাল্টা জবাব দিতে সীতারামন জানিয়ে ছিলেন, অর্থনীতির অসুখ সেরে ওঠার লক্ষণ তিনি দেখতে পেয়েছেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার ২০১৪-র মে’র পরে এবারে সর্বোচ্চ হয়েছে ৷ ২০১৯সালের ডিসেম্বর মাসে ক্রেতা পণ্য মূল্যসূচক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৩৫ শতাংশ। সেটাই নতুন বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫৯শতাংশ। খাদ্যপণ্যে মূল্য বৃদ্ধিই সর্বাধিক যা শুধু বেড়েই চলেছে। তরিতরকারির দাম বেড়েছে ৫০.১৯শতাংশ হারে। গত বছরের ডিসেম্বরেও প্রায় ৬০ শতাংশ দাম বেড়েছিল ৷ ডালের মূল্য বৃদ্ধি ১৬শতাংশ। দানাশস্যের দাম প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে।

খাদ্যপণ্য ছাড়াও মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে পরিবহণ ক্ষেত্রে ৬.০৮শতাংশ, আবাসন ক্ষেত্রে ৪.২শতাংশ এবং জ্বালানিতে ৩.৬৬শতাংশ। যদিও রিজার্ভ ব্যাংকের ফেব্রুয়ারি মাসের বুলেটিনে জানাচ্ছে , চলতি অর্থবছরে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর অবধি ব্যাংকগুলির মোট ঋণ গত বছরের তুলনায় মাত্র ১.৭ শতাংশ বেড়েছে! সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ‘ফুড ক্রেডিট’ যা ১০৪.৬ শতাংশ। এই ফুড ক্রেডিটের মাধ্যমে কৃষকদের থেকে খাদ্যশস্য কেনার জন্য ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলিকে ঋণ দেয় ব্যাংকগুলি।

অন্যদিকে নন-ফুড ক্রডিট, যার মধ্যে রয়েছে কৃষিঋণ, ছোট-মাঝারি-বড় শিল্প সংস্থাকে দেওয়া ঋণ ও রিটেল পার্সোনাল লোন, বাড়ি-গাড়ি কেনার জন্য ঋণ, শিক্ষার জন্য ঋণ ইত্যাদি বেড়েছে মাত্র ১.২ শতাংশ! শিল্প সংস্থাগুলি ঋণ নেওয়া কমিয়েছে ৩.২ শতাংশ এবং পরিষেবায় ঋণ দেওয়া কমেছে ১.৯ শতাংশ। অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়া বেড়েছে মাত্র ১.৮ শতাংশ।

বুধবার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার দেওয়া তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে শিল্পক্ষেত্রে চলতে থাকা সঙ্কটের কথাই। ডিসেম্বরে শিল্পোৎপাদন সূচক ০.৩শতাংশ কমে গিয়েছে। ২০১৮র ডিসেম্বরে ২.৯শতাংশ বৃদ্ধির বদলে এই ডিসেম্বরে উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১.২শতাংশ কমে গিয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেকটা কমে ০.১শতাংশে নেমেছে। ২০১৮র এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্বে শিল্পোৎপাদন সূচক ৪.৭শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। চলতি আর্থিক বর্ষের একই সময়পর্বে তা ০.৫শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্পে সঙ্কোচনের স্পষ্ট লক্ষণ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আবার সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি (সিএমআইই)’র সমীক্ষা রিপোর্টে জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতেও এদেশে বেকারির হার ঊর্ধ্বমুখী । মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে রিপোর্ট। মোদী জমানায় ২০১৭-১৮সালে যে বেকারির হার ৪৫বছরের রেকর্ড গড়েছিল সেই ঊর্ধ্বগতি এখনও থামেনি। সেবছর দেশের সম্ভাব্য শ্রমশক্তির মধ্যে বেকারির হার ছিল ৬.১শতাংশ আর চলতি বছরে সেটা ৭.৪ শতাংশে পৌঁছেছে।