বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এ বারের বাজেট ‘লোক দেখানো’৷ আর, তারই জেরে, সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রান্তিক মানুষের পাশাপাশি যৌনকর্মী এবং ট্রান্সজেন্ডারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যেমন অবহেলিত থেকে যাবে৷ তেমনই, যৌনকর্মী এবং ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার ফের বেড়ে যাবে৷

আরও পড়ুন: কন্ডোম ‘ব্যর্থ’, এইডস প্রতিরোধে পিল ব্যবহার করছেন বাংলার যৌনকর্মীরা

এমনই আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল৷ এবং, কেন্দ্রীয় সরকারের এই বছরের বাজেটের জেরে একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম এই সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের এ বারের বাজেটে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখই করা হয়নি৷ এমনিতেই এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে৷ আর, এই ধরনের বাজেটের জন্য যৌনকর্মী এবং ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: জোর করে যৌনপেশায় নয়, বাংলার সব যৌনপল্লিতে চালু হচ্ছে বোর্ড

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির অধীনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন যৌনপল্লিতে যখন যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হয়েছিল, সেই সময় আক্রান্তের হার ছিল পাঁচ শতাংশ৷ কিন্তু, নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হলেও, স্বাভাবিক কারণেই তখন নতুন করে আক্রান্তের হারও বেশি ছিল৷ যে কারণে, দশ বছর আগে যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার ছিল ১০ শতাংশ৷ ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘২০১৬-য় কেন্দ্রীয় সরকারের সমীক্ষা অনুযায়ী যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার এক শতাংশে আমরা নামিয়ে আনতে পেরেছি৷ ২০০৭-’০৮-এ এই হার ছিল ১০ শতাংশ৷’’

আরও পড়ুন: উপেক্ষিত হু-র আর্জি, বেসরকারীকরণের পদক্ষেপ: ডাক্তারদের তোপে মোদীর বাজেট

ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যেও এইচআইভি/এইডস নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ এই সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার বেশি৷ ২০০৫-’০৬ এ এই হার ছিল ৬-৭ শতাংশ৷ আর, ২০১৬-য় কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সমীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার চার থেকে সাড়ে চার শতাংশের কথা জানানো হয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গত পাঁচ বছরে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের জন্য বহু প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ফিল্ড কর্মীরা ছয় মাস, নয় মাস অন্তর বেতন পাচ্ছেন৷’’

আরও পড়ুন: মোদীকে পোস্ট কার্ড পাঠাচ্ছেন হাজার হাজার ট্রান্সজেন্ডার-সমকামী

ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘এই ধরনের পরিস্থিতিতে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের কাজ যাতে আর ব্যাহত না হতে পারে, তার জন্য আমরাই ওই সব ফিল্ড কর্মীর বেতন দেওয়ার ব্যপস্থা করছি৷ কিন্তু, এ ভাবে আর কতদিন চলতে পারে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের এ বারের বাজেটে সমাজের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘১০ কোটি গরিব এবং অসহায় পরিবারের চিকিৎসার জন্য বছরে সর্বাধিক পাঁচ লক্ষ টাকার বিমার কথা বলা হয়েছে বাজেটে৷ কিন্তু, এর জন্য বাজেটে অর্থ সংস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি৷’’

আরও পড়ুন: ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য স্পনসর চাইছে বাংলার দুর্বার

গত বছর সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয়েছিল৷ আর, এ বার ৫৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয়েছে৷ এ বছরও জিডিপির মাত্র এক শতাংশের মতো অর্থ বরাদ্দ হয়েছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে৷ এ কথা জানিয়ে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘এই ধরনের বাজেটের কারণে এমনিতেই যেখানে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চালু প্রকল্পগুলিতে টাকার টান পড়বে৷ সেখানে নতুন প্রকল্প কীভাবে সফল হতে পারে?’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে মূল বিষয় হিসাবে সাধারণ মানুষের কথা বলা হয়েছে৷ কিন্তু, সেভাবে অর্থ সংস্থানের উল্লেখ করা হয়নি৷ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের এই বাজেট লোক দেখানো, গালগল্প৷ এই বাজেট অনুযায়ী সমাজের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিই উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: গরিব মানুষও হাঁটু প্রতিস্থাপন করাতে পারবেন বেসরকারি হাসপাতালে: বিজেপি

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I