মুম্বই: লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। আর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আসন বৃদ্ধিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী প্রতিক্রিয়া দেবেন, তা নিয়েও ছিল প্রশ্ন। গেরুয়া ঝড়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার পর একই কথা বলেছেন দু’জনে।

শনিবার সকালে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ছিল। সেখানে রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে দাবি কংগ্রেসের। যদিও কংগ্রেসের নেতারা তাঁকে অব্যাহতি দিতে চাননি বলেই দাবি।

ওইদিনই বেলা বাড়ার পর একই ছবি পশ্চিমবঙ্গে। দলের সব নেতা-নেত্রীদের নিয়ে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে চেয়েছিলাম। দল আমাকে যেতে দেয়নি।’ রাহুল ও মমতার এই দাবি সামনে আসার পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করেছেন বিষয়টি নিয়ে। কেউ বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধী আসলে রাহুল গান্ধীর কাছেই ইস্তফা দিতে চেয়েছেন, আর রাহুল গান্ধীই তাঁকে আটকে দিয়েছেন।’ মমতার ক্ষেত্রেও একই রকম ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ঘোরাফেরা করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বাদ যাননি বলিউডের অন্যতম পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। মমতা ও রাহুলের এই ইচ্ছের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমরাও বোকা হয়ে থাকার অভিনয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন বুদ্ধি আমাদের রিজেক্ট করেছে।’

কার্যত মমতা ও রাহুলের এই পদত্যাগের ইচ্ছেটাকে আইওয়াশ বলেই মনে করছেন অনুরাগ। আর মানুষ যে সত্যিটা ধরে ফেলছে, সেটাও ট্যুইটে বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিচালক। শেষে মজা করে লিখেছেন, ‘আমি ট্যুইট করতে চাইনি, কিন্তু ট্যুইট ব্যবহারকারীরা আমার ইচ্ছেটাকে রিজেক্ট করেছে।’

নরেন্দ্র মোদীকে জয়ের পরই শুভেচ্ছা জানান পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর কোনও এক অনুরাগী তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে কী করা উচিত? প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন অনুরাগ।

সঙ্গে তাঁর মেয়ে ধর্ষণে হুমকি দেওয়া সেই ট্যুটটে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগও করেন পরিচালক। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ‘চৌকিদার রামসংঘী’ বলে কোনও এক টুইটার হ্যান্ডেল থেকে অনুরাগের মেয়ে আলিয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। ”বাবাকে বলো মুখ বন্ধ রাখতে, না হলে..”

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে অনুরাগ নিজেই লিখেছেন, তিনি ডানপন্থী, বামপন্থী বা মাঝামাঝি কিছুই নন। অনুরাগ লিখেছেন। ”Neither Left nor Right or Centre . I am Diagonal’