স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: ভোটের দিন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতির বাড়িতে বিজেপির যাদবপুরের প্রার্থী অনুপম হাজরা৷ পাশাপাশি বসে দু’জনে৷ কথাও হল বেশ কিছুক্ষণ৷ বিজেপির অনুব্রত মধ্যাহ্নভোজও সাড়লেন কেষ্টর ডেরায়৷ যা দেখে ভোটবাজারে জল্পনার উত্তাপ৷

সেই উত্তাপ আরও বাড়লো ‘কাকা-ভাইপো’র মন্তব্যে৷ প্রিয় ভাইপো অনুপমকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেন কাকা অনুব্রত৷ ভাইপোর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কেষ্টবাবুর কান বাঙানো হচ্ছিল৷ ভুল বোঝাবুঝি থেকেই সমস্যার সূত্রপাত৷ এখন অবশ্য সম্পর্ক অনেক ভালো৷

আরও পড়ুন: মোদীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী জওয়ানকেই প্রার্থী করল সপা

বোলপুর লোকসভার সাংসদ বিজেপির যাদবপুরের প্রার্থী অনুপম হাজরা৷ এই কেন্দ্র থেকেই গতবার তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়ে সাংসদ হন তিনি৷ জোড়াফুলে থাকার সময় দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে মতবিরোধ হয় অনুপমের৷ তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর করা নানা পোস্ট ঘিরেও বিতর্ক দানা বাঁধে৷ অস্বস্তিতে পরে তৃণমূল শিবির৷

ভোটের আগেই বোলপুরের সাংসদকে দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করে কাজ্যের শাসক দল৷ পরে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখান অনুপম হাজরা৷ তাঁকে যাদবপুরের প্রার্থী করে গেরুয়া শিবির৷ কিন্তু স্বস্তিতে নেই বিজেপি প্রার্থী৷ দিন কয়েক আগেই যাদবপুর কেন্দ্রের বিজেপি কর্মীদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি৷ এরপরই সোমবার অনুব্রত মণ্ডলের অফিসে গিয়ে অনুপমের দেখা করা যথেষ্ট তাৎপর্যবাহী বলে মনে করা হচ্ছে৷

ভোট দেওয়ার পরই এদিন কাকা কেষ্ট মণ্ডলকে ফোন করেন অনুপম৷ তারপরই বিজেপির উত্তরীয় গায়ে তৃণমূল দফতরে প্রবেশ তাঁর৷ যা দেখে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ না থামার উপক্রম৷ কাকাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করেন ভাইপো৷ তারপরই অনুপমকে উদ্দেশ্য করে অনুব্রত বলেন, ‘‘ও ভুল করেছে৷ একেই এমপি করতাম আবার৷ ভুল শুধরে ফিরে আসতে চাইলে আবার দলে নেব৷’’

আরও পড়ুন: ইভিএমে আতর মাখানো, অভিনব রিগিংয়ের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

জবাবে যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘‘কাকাকে আমার বিরুদ্ধে কান বাঙানো হয়েছিল৷ ওইজন্যই ভুল বোঝাবুঝির শুরু৷ আমি এখন অন্য দলে৷ তবে মনকষাকষি আর নেই৷ বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলই তো শেষ কথা৷’’ তাহলে কী ফের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন বিজেপির অনুপম৷ সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তিনি৷
যাদবপুরে লোকসভা কেন্দ্রে ভোট আগামী ১৯ মে৷ তার আগেই প্রতিপক্ষের ডেরায় পদ্ম ফুলের প্রার্থী৷

স্বাভাবিকভাবেই অনুপমের দলবদলের সম্ভাবনা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ অস্বস্তিতে বিজেপি৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে অনুপমের আচরণেই স্পষ্ট গেরুয়া দলে মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি৷ ফলে পুরনো দলের নেতার কাছে গিয়ে ‘শান্তি’খোঁজার চেষ্টায় অনুপম৷ যার প্রভাব পড়তে পারে ইভিএমে৷