স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সৌমিত্রর দেখানো পথেই কি এবার বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরা? জল্পনা আগেই ছিল। এবার এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেল বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কথায়।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুকুল রায়। সেখানেই তিনি বলেন, ‘অনুপম হাজরা আমার বাড়িতে বসে রয়েছেন। কিন্তু মামলার ভয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারছেন না।’

কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে কোচবিহারের তৃণমুল সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ও যোগ দিতে পারেন পদ্ম শিবিরে। লোকসভার আগে তৃণমূলের শিবিরের কাছে যা বড় ধাক্কা। এই প্রসঙ্গে মুকুল রায় বলেন, ‘আগামিদিনে পার্থবাবুও বিজেপিতে যোগ দেবেন।’

আগেও মুকুল রায় জানিয়েছিলেন যে একাধিক তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘পুলিশি রাজে’র ভয়েই যোগ দিতে পারছেন না তাঁরা। সৌমিত্র খাঁ-র উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, যতদিন উনি তৃণমূলে ছিলেন কোনও মামলা ছিল না। বিজেপিতে যোগ দিতেই শুরু হয়েছে মামলা। তাই পুলিশি হেনস্থার ভয়ে যোগ দিতে পারছেন না তৃণমূল নেতারা।

সৌমিত্র খাঁকে বিজেপিতে যোগদান করানোর পরই মুকুল বলেছিলেন, তৃণমূলের আরও ছ’জন সাংসদ বিজেপিতে আসার জন্য তৈরি আছেন। তার পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছেই। কে কে রয়েছেন মুকুলের নিশানায়? মুকুল ঘনিষ্ট শিবিরের ব্যাখ্যা, দক্ষিণ বঙ্গে তৃণমূলের ৪ সংসদ তৈরি আছেন।

মুকুল সহযোগীদের যা বক্তব্য, ওই চার তৃণমূল সংসদের মধ্যে দুই জন খুবই প্রভাবশালী তবে ইদানিং তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুনজরে নেই। ২০১৯ সালে তাঁরা তৃণমূলের টিকিট পাবেন, সে নিশ্চয়তা নেই।

জানুয়ারিতেই বিজেপিতে যোগ দেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। অন্যদিকে অনুপম হাজরা বীরভূম জেলার বোলপুরের সাংসদ। সৌমিত্রর সঙ্গে একই দিনে এই সাংসদকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত পোস্ট করে দলকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছিলেন অনুপম। সেই কারণেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এরপরই সৌমিত্রকে উদ্দেশ্য করে ট্যুইট করেন অনুপম। বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থার ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, “গত চার বছর ধরে একটাও কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ডাক না পেয়েও… জেলাতে কমপ্লিটলি হ্যান্ডিক্যাপড হয়েও… দিদির প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি আর তুই পারলি না…!!! …শকিং…!!! যাই হোক.. ভালো থাকিস বন্ধু…!!!” পরে সেই ট্যুইট মুছেও দেন তিনি। এরপর থেকেই চলছিল জল্পনা।