স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তুমি তো হরলিক্সটাও ঠিকমত খেতে পার না, চেটে চেটে খাও। আর তোমার এতবড় ঔদ্ধত্য যে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে চাইনিজ অ্যাপের তুলনা করছ!!!

অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা। ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার থেকেই প্লে স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর খুললেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেলেব থেকে সাধারণের পছন্দের টিকটক অ্যাপ।

এপ্রসঙ্গে অভিনেতা তথা তৃণমূলের যুবশক্তির রাজ্য কো-অর্ডিনেটর সোহম চক্রবর্তীর মন্তব্য, “চিন নোংরা রাজনীতি করেছে। গোটা বিশ্ব তাদের জন্য সংকটে। তার বিরোধিতা করতেই হবে। কিন্তু, কিছু অ্যাপ বন্ধ করলেই কি ভারতীয় সৈন্যরা যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রান ফিরে আসবে?”

এরপরই সোহমকে একহাত নিয়েছেন অনুপম। ফেসবুকে তিনি সোহমের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “কে ভাই তুমি? কে এই অধিকার দিল তোমাকে? ভারতীয় সেনারা সীমান্ত পাহারা দেয় বলে তুমি শান্তিতে ঘুমোতে পার। তাঁরা সীমান্তে হিরোগিরি করে বলে তুমি সিনেমার পর্দায় হিরোগিরি করতে পার।

কত বড় মূর্খ হলে চাইনিজ অ্যাপের সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের তুলনা করে!!!” এখানেই থামেননি অনুপম। সোহমকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “তুমি হরলিক্সটাও ঠিকমত খেতে পার না, চেটে চেটে খাও। আর তোমার এতবড় উদ্ধত যে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে চাইনিজ অ্যাপের তুলনা কর।

ভাবতে অবাক লাগে এরকম একটা জোকারকে বা প্রাণীকে তৃণমূল আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এটা সাধারণ মানুষের উপর ছেড়ে দিলাম, এইসব প্রাণীদের আপনারা রাস্তায় ঘুরতে দেবেন নাকি চিড়িয়াখানায় রাখবেন!!!”

অন্যদিকে, দেশে টিকটক নিষিদ্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নুসরত জাহান। এই ইস্যুতে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা। ফেসবুকে কটাক্ষ করে অনুপম বলেছেন, “চাইনিজ অ্যাপ টিকটক ব্যান করে দেওয়ায় শাসক দলের সাংসদ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। কারণ তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র বসিরহাটের মানুষদের সঙ্গে জনসংযোগ করার একমাত্র মাধ্যম ছিল টিকটক।”

অনুপম এও বলেছেন যে, “ওই সাংসদ নাসার বৈজ্ঞানিকদের কাছে তিনি আবেদন করেছেন, টিকটকের মত অ্যাপ ভারতে বানাতে। এটা শুনে তো সেইসব বৈজ্ঞানিকরা কনফিউসড। কারন এতদিন তাঁরা স্যাটেলাইট বানিয়ে এসেছেন। এখন কিভাবে এই অ্যাপ বানাবেন তাঁরা বুঝতে পারছেন না।”

প্রসঙ্গত, ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার থেকেই প্লে স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর খুললেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেলেব থেকে সাধারণের পছন্দের টিকটক অ্যাপ। এ প্রসঙ্গে নুসরত বলেছেন, ‘‘আমার কাছে টিকটক আমার ফ্যানদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটা মাধ্যম মাত্র। যদি দেশের স্বার্থে এই অ্যাপ ব্যান করা হয় সে ক্ষেত্রে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’’

তবে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন নুসরত। কী সেগুলো? ‘‘ভারতে যে যে চিনা সংস্থা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ করেছে, সে ক্ষেত্রে তাদের কী করা হবে? প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর থেকে কী পেয়েছি আমরা?’’ নুসরত বলছেন, এই সবের উত্তর তিনি আজও পাননি। এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘‘যে সমস্ত মানুষ এই দেশে চিনা দ্রব্য আমদানি-রফতানি করেন তাঁদের কী হবে? এই দুঃসময়ে কি তাঁরা কাজ হারাবেন?’’

ফেসবুক-টুইটারের মতো টিকটকেও যথেষ্ট পরিমানে সক্রিয় তৃণমূলের দুই নুসরত ও মিমি। টিকটক ভিডিও ব্যবহার করার জন্য বেশ কয়েকবার এই দুই তারকা সাংসদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড হয়েছেন।

টিকটক বন্ধ হওয়ার পর মিমি-নুসরতকে উদ্দেশ্যে করে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও বিদ্রুপের সুরে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, টিকটক বন্ধ,তাহলে যাদবপুর বা বসিরহাটের মানুষ তাদের সাংসদ কোথায় দেখতে পাবেন?

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ