সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন সবই ভুল। এটা প্রমাণ করার জন্য নানা মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের। এবার যা করলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা তা প্রায় নজিরবিহীন। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথার ব্যামো রয়েছে তা বলে দিলেন। তৃণমূল বেবাগি সেই নেতা অনুপম হাজরা।

এক সময় অনুপম হাজরা মমতা বন্দ্যপাধায়ের দলের কর্মী। তৃণমূলের টিকিট মেলেনি। বিজেপিতে যোগদান করে সরাসরি ২০১৯ লোকসভা ভোটের টিকিট পেয়ে গিয়েছিলেন। লাভের লাভ কিছুই হয়নি। উলটে কখনও বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে বিতর্কে জড়িয়েছেন। কখনও আবার বিদ্যাসাগরের মূর্তি নিয়ে বেরিয়ে দলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। এরপরেও কোনও লাভ হয়নি। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দেশ জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের মাঝেও হারতেই হয়েছিল অনুপম হাজরাকে। সেই হাজরাবাবু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝাড়খণ্ড শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে বললেন ‘…..finally মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাঁচী গেলেন’। আসলে এবার বাকিটা পাঠককে বুঝে নিতে হবে। কারণ শপথের অনুষ্ঠান হচ্ছে রাঁচিতেই।

কে না জানে রাঁচিতে মানসিক চিকিৎসালয় রয়েছে। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বাড়ি বিখ্যাত হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাংলার মানুষের কাছে এই মানসিক চিকিৎসালয়ের বিশেষ ‘খ্যাতি’ রয়েছে। কেউ কোনও বেচাল কথা বললেই বাঙালির মুখে প্রচলিত বাক্য, ‘রাঁচির পাগলা গারদে পাঠাতে হবে’। উলটে নাক ঘুরিয়ে দেখানো ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেটাই বলতে চেয়েছেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা।

এদিকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবারই ঝাড়খণ্ডে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার শপথ অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের রাস্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানাতে টাঙানো হয়েছে বিশাল ব্যানারও। অবশ্য একা নন, বিজেপি বিরোধী প্রায় সমস্ত নেতা-নেত্রীর ব্যানার-পোস্টার-হোর্ডিংয়ে এদিন মুড়ে দেওয়া হয়েছে রাঁচির রাস্তাঘাটকে।

রবিবার হেমন্ত সেরেনের শপথ মঞ্চকে গড়ে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরোধিতায় ফের এক মঞ্চে আসতে চলেছেন বিজেপি বিরোধী দলগুলির মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে নেতা-নেত্রীরা। একইসঙ্গে এই শপথকে ঘিরে বিরোধী ঐক্য দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন বিরোধীরা। সেই ছবিই দেশের সামনে তুলে ধরতে সেজে উঠেছে রাঁচি। এই অনুষ্ঠানকে অ-বিজেপি জোটের গ্র্যান্ড শো বলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।