স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: অনুপমের ২১শের বোধোদয়৷ দলে থাকতে তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে ছিলেন ‘স্পিকটি নট’৷ দল ছেড়েছেন, মাস কয়েক হল৷ ভোটেও লড়েছেন পদ্মফুলের প্রতীকে৷ দল বদল হতেই তাই বদলে গিয়েছে শহিদ দিবস নিয়ে তাঁর উপলোব্ধি৷ ২১শের শহিদ দিবসকে তাই ‘ওটা সার্কাসের মঞ্চ’ বলে কটাক্ষ করলেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ৷

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই৷ ভোটার কার্ডের ভিত্তিতে নির্বাচনের দাবিতে যুব কংগ্রেস কর্মীদের আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ নিহত হন ১৩ জন৷ প্রতিবাদে সেদিন প্রতিবার বছরই শহিদ দিবস পালন করেন তৃণমূল নেত্রী৷ বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার দাবি, ‘‘ওই দিনের নিয়ন্ত্রণহীন নেতৃত্বের জন্যই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল৷ ওই ঘটনার জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই৷’’ এখানেই শেষ নয়৷ ২৬ বছর আগের সেই ঘটনা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো রাজনৈতিক ফায়দা তোলেন বলেও মনে করেন যাদবপুর লোকসভার বিজেপি প্রার্থী৷ তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য ১৩ জন কর্মী কে ১৪৪ ধারা জারী হওয়া এলাকায় ঢুকতে বাধ্য করেছিলেন। যার ফলশ্রুতি কংগ্রেস কর্মীদের মৃত্যু।’’

অনুপম হাজরার কটাক্ষ, ‘‘বর্তমানে ওটা শহিদ মঞ্চ নয়, সার্কাসের মঞ্চে পরিণত হয়েছে৷’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ শহিদ দিবস পালনের প্রকৃত অধিকারী কংগ্রেস তৃণমূল নয়। এখন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদ পরিবার কোনও গুরুত্বই পান না। সামনের সারি আলোকিত করে বসে থাকেন অভিনেতা, অভিনেত্রীরা। যাদের কোনও কাজ নেই তারাই সেখানে যান৷’’

২০০৪ থেকে ২০১৯৷ পাঁচ বছর তিনি ছিলেন তৃণমূল সাংসদ৷ যোগদান করেছেন ২১শের সভায়৷ তাহলে তখন কেন সরব হননি তিনি? তাহলে কী সেই সময় পদের লোভেই মুখ বন্ধ রেখেছিলেন বোলপুরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ৷ শিবির বদল হতেই বিদ্ধ করছেন পুরনো দলকে৷ কৌশলে কী বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি৷ প্রশ্ন উঠছে অনুপমের ২১শের বোধদয় নিয়ে৷