স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে পৌষমেলার মাঠে রাতের অন্ধকারে সেক্স র‍্যাকেট, নেশার ঠেক চলে বলে দাবি করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্ত্তী ও বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁদের সেই দাবি উড়িয়ে দিলেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী-অধ্যাপক তথা বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা।

পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল ভাঙা নিয়ে গন্ডগোলের সময় হঠাৎ একদিন অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার তথা জনসংযোগ আধিকারিকের একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে।বিশ্বভারতীর লেটার হেডে ছাপা বিবৃতিতে লেখা ছিল, বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতেই পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার প্রয়োজন।

শুধু তাই নয়, পৌষ মেলার মাঠে বিপজ্জনক কাজকর্ম চলে। সেখান থেকে পাওয়া গিয়েছে মদের বোতল এবং ব্যবহার করা কন্ডোম। মাঠের একটি অংশ যৌনক্রিয়ার মৃগয়া ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, রাত আটটার সময় মাঠ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও গভীর রাত পর্যন্ত নেশার ঠেক চলে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনিও বলেছিলেন, “অরক্ষিত মেলার মাঠে রীতিমতো অসামাজিক কাজকর্ম চলে। দেহ ব্যবসা থেকে নেশাড়ুদের আড্ডা, সবই হয় এখানে। শাসকদল তৃণমূলের লোকেরাও এই মাঠ থেকে মোটা টাকা কামান।”

রবিবার বোলপুরে প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরাকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিশ্বভারতীর ছাত্র ছিলাম। এখানে সেক্স র‍্যাকেট চলে বলে আমার জানা নেই। ফলে কে কি বলল সেটা আমি দেখতে যাব না। এখানে ছোট থেকে বড় হয়েছি। বিশ্বভারতী নিয়ে আমরা একসঙ্গে লড়ছি।

তবে তার মানে এটা নয় যে বিশ্বভারতীর নামে ভুলভাল বলব। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপুটেশন খারাপ করে দেব। আমরা যারা এখানে বড় হয়েছি তাদের কাছে বিশ্বভারতী একটা আবেগের নাম। আমি এখানে অন্তত কোনও দিন সেক্স র‍্যাকেট চলতে দেখিনি। ফলে কে কি বলেছেন সে দায়িত্ব তাঁর।”

বিশ্বভারতী প্রসঙ্গে এদিন তৃণমূলকে নিশানা করেন অনুপম। তিনি বলেন, ” কখনো আপনারা দেখেছেন একটা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে জেসিবি এনে গেট ভাঙা হচ্ছে? যে দলের যেমন কালচার! ট্রাক্টর নিয়ে আশেপাশের গ্রাম থেকে লোক এনে যেভাবে বর্বরোচিত আক্রমণ করা হয়েছে আমার মনে হয় সেটা কখনও মেনে নেওয়া যায় না।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।