স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: এলাকার তোলাবাজদের হিসাব চাইলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। তাও দু দিনের মধ্যে পুরো লিস্ট তার হাতে চেয়েছেন তিনি। ‘কেষ্ট’ অনুব্রতর হুমকি দেওয়া কাজকর্মই রাজ্যের মানুষ দেখে অভ্যস্ত। সেই কেষ্টই এবার অন্য রূপে। নেমেছেন তোলাবাজ সংহারে।

গজনি ছবিতে নিজের ভিলেন শত্রু সঞ্জয় সিঙ্ঘানিয়াকে খুঁজতে তার শাগরেদদের বলছিলেন ‘ইন সব কি লিস্ট বানাও’। ছবির প্রেক্ষাপট অনুযায়ী খলনায়ক গজনি এলাকায় যত সঞ্জয়ের মতো দেখতে লোক আছে তাদের লিস্ট বানাতে বলেছিলেন। অনুব্রতর তোলাবাজদের খুঁজে বের করার নির্দেশ অনেকটা খলনায়ক গজনির মতোই, যেখানে তিনি সমস্ত তোলাবাজদের লিস্ট চাইছেন। শুক্রবার মুরারইয়ের জনসভা থেকে অনুব্রতর নির্দেশ, “তোলাবাজিতে দলের কেউ যুক্ত থাকলে দু’দিন পরে জনসভা থেকে তাদের বহিস্কার করা হবে।” তবে তিনি অনুব্রত। ওইটুকুতেই থেমে যাওয়ার পাত্র তিনি নিন। পর মুহূর্তে তার নির্দেশ পুলিশকে লক্ষ্য করে। বললেন, “শুধু দলীয় কর্মীদের নয় পুলিশকেও এ ব্যাপারে সক্রিয় হতে হবে।”

শুক্রবার বিকেলে মুরারইয়ের পশুহাটের মাঠে দলীয় সভার আয়োজন করে তৃণমূল। সেখানে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “জাজিগ্রাম ও চাতরা অঞ্চলে জোর করে তোলাবাজি হচ্ছে শুনলাম। এরকম করলে ছাড়ব না। পার্টির কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলা হচ্ছে”। এর বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন তিনি। এরপর পুলিশকে উদ্দেশ্য কর বলেন, “সি.আই সাহেবকে বলব, যদি আমাদের দলেরও লোক হয়, সাত দিনের মধ্যে তাকে আগে গ্রেফতার করুন। আমি বুঝে নেব। দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করিনি। কোন দিনের জন্য আপোষ করব না। মানুষের ক্ষতি হোক চাইব না। মানুষের পাশে থাকব। মানুষকে ঠকানো যাবে না। জোর করে কোন টাকা তোলা যাবে না। দলের যদি কোন পদাধিকারি তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে তাকেও গ্রেফতার করুন।”

এরপরে দলের জেলা সহ সভাপতি অভিজিত রানা সিংকে মঞ্চ থেকে অনুব্রত মণ্ডল নির্দেশ দেন “প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে কারা কারা এর সঙ্গে যুক্ত বের করো। যদি পার্টির কোন লোক থাকে তাহলে ১০ ডিসেম্বরের সভায় তাদের বের করে দেব। কথা দিয়ে গেলাম কোন রেয়াত করব না। যেখান অন্যায় হবে সেখানে মাথা তুলে দাঁড়াব। প্রতিবাদ করব। অন্যায় রুখব। ভয় করব না। যদি বিধায়কের লোক হয় তাকেও তাড়াব। যদি ব্লক সভাপতির লোক হয় তাকে আগে জেলে ঢোকাব। এটা আমার শেষ কথা”।