সিউড়ি:  লোকসভা ভোটের আগে কাটমানি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকেই একের পর এক কাটমানি কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। নাম জড়ায় একাধিক তৃণমূল নেতার। যা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণে পড়তে হয় তৃণমূলকে। যা নিয়ে অস্বস্তি পড়ে যেতে শাসকদলকে। ইমেজ ফিরে পেতে পালটা আক্রমণের রাস্তায় নামতে বাধ্য হন খোদ দলনেত্রী।

দলের নেতৃত্বকে এই বিষয়ে সতর্ক করে দেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, জেলার শীর্ষ নেতৃত্বকেও এই বিষয়ে খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই নির্দেশ পাওয়া মাত্র নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতারা। আর এরপরেই নিচুতলার কর্মীদের এই বিষয়ে সতর্ক করতে গিয়ে বিতর্ক বাড়ালেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মন্ডল।

সরকারী যোজনায় বাড়ির জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতারা কোনও টাকা চাইলে তাদের বেঁধে পেটানোর নিদান দিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি। মহম্মদবাজার ব্লক তৃণমূলের তরফে এক কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। আর সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খোদ তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এমন ফরমান জারি করলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়েছে তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের নামে সরকারি যে বাড়ি এসেছে সেই বাড়ি করার জন্য যদি কোনও পঞ্চায়েত সদস্য বা তৃণমূলের কোনও কর্মী টাকা চায়, তা হলে তাকে বেঁধে পেটান।” তিনি আরও বলেন, “এটা সকলের কাছে প্রচার করে দিন, কেউ টাকা চাইলে তাকে যেন বেঁধে পেটায়!’’

তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুব্রত মন্ডলের এহেন মন্তব্যে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। যদিও তা মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের পালটা যুক্তি কেষ্টার মন্তব্য পরিস্কার। কোনও সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে কোনও টাকা লাগে না। এরপরেও যদিও কোনও নেতা টাকা নেন তা অন্যায়। এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে অনুব্রত মন্ডলের এহেন মন্তব্যে কোনও ভুল দেখছে না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।