স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর শুক্রবার প্রথম কোর কমিটির বৈঠকে বসল তৃণমূল। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের মোকাবিলা করতে সাংগঠনিক স্তরে কী কী পরিবর্তন করা উচিত, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে এদিনের বৈঠকে। এদিনও দলে বেশ কিছু রদবদল হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, গত শনিবারের বৈঠক এড়িয়ে গেলেও এদিন কালীঘাটে এসেছেন বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল৷ দলবদলের হাওয়ায় তিনি যে ভাসছেন না, সেটা বোঝাতেই তাঁর এই সশরীরে হাজিরা বলে মনে করছে তৃণমূলের একাংশ।

ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর গত শনিবার রিভিউ কমিটির বৈঠক ডাকেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরাও সেই বৈঠকে ছিলেন৷ সেদিন দলের সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করেছিলেন নেত্রী৷ একদিকে যেমন দলে ক্ষমতা কমিয়েছেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তেমন দায়িত্ব বাড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর৷ আবার যেসব প্রার্থীরা ভাল লড়াই দিয়েও হেরে গিয়েছেন তাঁদেরকেও জেলায় কোনও না কোনও পদ দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন মমতা৷ তাই শুক্রবারের কোর কমিটির বৈঠক ঘিরে চরম কৌতুহল রয়েছে দলের অন্দরে৷

তবে সূত্রের খবর, এদিন মূলত সাংগঠনিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা হওয়ার কথা। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে শক্ত করার কাজ শুরু করতে চান মমতা৷ এই বৈঠকে দলীয় নেতাদের সেই অ্যাসাইমেন্ট দিতে পারেন নেত্রী৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, এদিন দলের সাংগঠনিক স্তরে বেশ কিছু রদবদলও হতে পারে। বেশ কিছু নেতার দায়িত্ব কমানো হতে পারে। সেই সঙ্গে দায়িত্ব অদলবদলেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবারের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলার তৃণমূলের সর্বেসর্বা অনুব্রত মন্ডল ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷অনুব্রত দিদিকে জানিয়েছিলেন, কয়েকদিন তিনি বিশ্রাম নিতে চান৷ আর রবীন্দ্রনাথকে দিদি নিজেই এলাকায় থাকতে বলেছিলেন৷ এদিন কালীঘাটে অনুব্রত এলেও আসেননি রবীন্দ্রনাথ৷উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, আমি কালীঘাটে যাইনি৷ দিদি আমাকে গত পরশু ফোন করে বলেছেন জেলায় থাকার জন্য৷ এখানে বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোল করছে৷ আমাদের এখান থেকে পরেশ অধিকারী, বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ গিয়েছেন৷

তবে অনুব্রতর হাজিরা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন কেষ্ট একটু চাপেই আছেন৷ কারণ দু-দিন আগেই তাঁর গড়ে ধ্স নামিয়েছে বিজেপি৷ তৃণমূলের এক বিধায়ক সহ চার দাপুটে নেতাকে পদ্মফুল শিবির নিজেদের দলে টেনে নিয়েছে৷ এমনকি অনুব্রতও বিজেপিতে যোগ দিতে পারে বলে বাজারে রটেছে৷ এই পরিস্থিতিতে তিনি যে দিদির পাশে রয়েছেন সেটা বোঝাতে তড়িঘড়ি কালীঘাটে ছুটে এসেছেন অনুব্রত৷