স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হায়দরাবাদ গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর উল্টো সুর শোনো গেল বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের গলায়৷ যে ভাই সর্বদা দিদির হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বলেছেন, সেই ভাইয়ের এমন উল্টো বক্তব্য অনেককেই অবাক৷

শনিবার বীরভূমের সাঁইথিয়ায় কর্মীসভায় হায়দরাবাদ এনকাউন্টার নিয়ে সাংবাদিকরা অনুব্রত মণ্ডলের মত জানতে চাইলে, তিনি বলেন- “খুব ভাল শাস্তি হয়েছে। একদম উপযুক্ত শাস্তি!” এরপরই তাঁকে সাংবাদিকরা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এর বিরোধিতা করছেন! তখনই অস্বস্তিতে পড়ে যান অনুব্রতবাবু। বলেন, “এটা তো হায়দরাবাদের ব্যাপার। হায়দরাবাদ মানে অল ইন্ডিয়ার ব্যাপার। অল ইন্ডিয়ার ব্যাপারে যা হয় সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলেন। সেখানে আমার বলা সাজে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত মত বলেছেন। আমি আমার ব্যক্তিগত মত বললাম।”

শুক্রবার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূলের সংহতি দিবসের সমাবেশ ছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, “দ্রুত চার্জশিট পেশ করে আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হওয়া দরকার। কোথাও আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হবে না। আদালতের মাধ্যমেই দোষীদের সাজা দেওয়া উচিত।” সেইসঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে ফাস্টট্র্যাক কোর্টের কথাও বলেছিলেন মমতা। বাংলার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, এ রাজ্যে ৮৫টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এনকাউন্টারের পর থেকেই জনতা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একটা অংশের মত, সাইবারাবাদ পুলিশ সঠিক কাজ করেছে। দলনেত্রী বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার কথা বললেও অনুব্রত মণ্ডলের মতো এনকাউন্টারকে সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূলের চার সাংসদ৷ শুক্রবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘‘খুব ভাল হয়েছে৷ অনেকে হয়তো বলবেন একজন সাংসদ হয়ে কিভাবে আমি বলছি৷ কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে নারী হিসেবে বলব একদম ঠিক হয়েছে৷ না হলে ওরা আন্ডার ট্রায়াল থাকত, সাত বছর ধরে ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন খেত৷ যে লোকগুলো ওদের সাপোর্ট দিত তারা টাকা রোজগার করত৷ তাই এনকাউন্টার হয়ে খুব ভাল হয়েছে৷’’

তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহান টুইটারে লিখেছেন, ”শেষপর্যন্ত বিচার হল, আইন-বিচার ব্যবস্থার কাউকে না কাউকে তো বিচার পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতেই হবে। সকলে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। অপরাধীর বেঁচে থাকার অধিকার নেই।”

তৃণমূলের সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী লিখেছেন, ”অবশেষে তোমার আত্মা শান্তি পেল। এনকাউন্টারের পর হায়দরাবাদ পুলিশকে নিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সেলিব্রেশনের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন মিমি।” হায়দরাবাদ পুলিশকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঘাসফুলের আরও এক সাংসদ দেব ও৷

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা