ফাইল ছবি।

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনে নয়, মানুষ আতঙ্কিত হয়েই জনতা কার্ফু পালন করেছেন। জনতা কার্ফুর সাফল্য নিয়ে এমনই দাবি করলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, শুধু ভাষণ নয়, তার সঙ্গে রেশনও দিন। নোভেল করোনার প্রকোপ রুখতে রবিবার ‘জনতা কার্ফু’র ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

স্বাস্থ্য, সংবাদমাধ্যমের মতো জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত কর্মী, যাঁরা নিজেদের কথা না ভেবে অন্যদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন, হাততালি, থালা, কাঁসর, ঘণ্টা বাজিয়ে সন্ধ্যায় তাঁদের ধন্যবাদ জানাতেও সাধারণ মানুষকে আর্জি জানান তিনি। এদিন সকাল থেকে কার্ফুতে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মেলার পর বিকাল ৫টা বাজতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের নিজের বাড়ির বারান্দা এবং ছাদে জড়ো হন মানুষ জন। কেউ কাঁসর-ঘণ্টা, তো কেউ শাঁখ, কেউ আবার চামচ দিয়ে থালা বাজাতে শুরু করেন।

কোথাও কোথাও আবার ‘গো করোনা’ স্লোগানও ওঠে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, গোটা দিনের ছবিতে স্পষ্ট, এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশেই রয়েছে দেশবাসী। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও এদিন নিজের বাড়িতেই ছিলেন। জনতা কার্ফু প্রসঙ্গে তিনি বললেন, “মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, এই বিষয়টি অস্বীকার করার জায়গা নেই। তাই সকলেই বাড়ির মধ্যে বসে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বলেই নয়। “

প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে অনুব্রত মন্ডল বলেন, “মোদী ৩০০০ কোটি টাকা দিয়ে মূর্তি তৈরি করলেন। সেটা খারাপ নয় মানলাম। সেই টাকায় তো অনেকগুলি হাসপাতাল করা যেত। উনি বললেন, কার্ফু জারি করো, তালি বাজাও, থালা বাজাও। কিন্তু, মানুষ খাবে কী? মানুষের জন্য কী ব্যবস্থা করলেন? ” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিলেন। কিন্তু, শুধু ভাষণ দিলে হবে না। তার সঙ্গে রেশনও দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলব, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মানুষের জন্য কিছু করুন।” করোনা ভাইরাস আতঙ্কে রবিবার ঘরবন্দি থেকে এমনভাবেই এদিন থেকেই দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করলেন তিনি। পাশাপাশি বীরভূমের সমস্ত পঞ্চায়েতগুলিকে বাড়ি বাড়ি আলু, সব্জি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন অনুব্রত মণ্ডল।