স্টাফ রিপোর্টার, গলসী: বিরোধী বাম, কংগ্রেস বা বিজেপি নয়। তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের এখন প্রধান প্রতিপক্ষ যেন আধা সামরিক বাহিনী। গত কয়েক দিন ধরে ক্রামাগত তিনি তোপ দেগে চলেছেন এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতির অভিযোগ, ‘এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করছে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানেরা’।

বৃহস্পতিবার আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এদিন পূর্ব বর্ধমানের গলসী দুই নং ব্লকের সাটিনন্দী অঞ্চলের খানা জংশনে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরার সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে এসে আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে কোনোরকম ভয় না পাওয়ার নির্দেশ দেন।

অনুব্রত মণ্ডল বলেন, আধা সামরিক বাহিনীকে স্যালুট জানাই। মনে রাখবেন, আধা সামরিক বাহিনীর বুথে ঢোকার নিয়ম নেই। বুথে ঢুকলেই আটকান। ছাড়বেন না। চোখ তুলে তাকালে চোখের পর্দা নামিয়ে দিন। হাত তুললে হাত নামিয়ে দিন। মনে রাখবেন বিষ্ণুপুর লোকসভা নির্বাচনের আগের দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরেও আমরা আছি। ভোটে ম্যাসল পাওয়ার ব্যবহার হলে আমরাও চুরি পড়ে বসে নেই। আমরাও ব্যবহার করবো। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আমরা স্যালুট জানাই, নমস্কার করি। কিন্তু তাদের ভয় পাবেন না। বুথের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢোকার নিয়ম নেই। তাই বুথে ঢুকলেই ছাড়বেন না।

আগামী রবিবার বিষ্ণুপুর লোকসভা নির্বাচনে গলসী ২নং ব্লকের ৭টি অঞ্চলেও ভোট। তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আবেদন জানান অনুব্রত মণ্ডল। জানিয়েছেন, শুধু বীরভূমই নয় বিষ্ণুপুর লোকসভা নির্বাচনেও তাঁর দাওয়াই নকুলদানা।

এদিন মঞ্চ থেকেই তিনি নকুলদানা ছড়িয়ে দেন জনগণের উদ্দেশ্যে। সম্প্রতি অনুপম হাজরার মন্তব্য নিয়ে এদিন অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছে্ন, তাঁর চাওয়া পাওয়া কিছু নেই। তিনি এমপি, এমএলএ নন। নন চেয়ারম্যান, কাউন্সিলারও। ফলে তাঁর চাওয়ার কিছু নেই। বরং অনেকেই তাঁর কাছে চাওয়া পাওয়ার জন্য আসেন।

অন্যান্যদের মধ্যে এদিন মঞ্চে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বপন দেবনাথ, বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী প্রমুখরাও।