স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: আগামী রবিবার সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণ। ওই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রের সঙ্গে বাঁকুড়া জেলার দুই আসনে ভোট গ্রহণ হবে। বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর এই দুই কেন্দ্র মিলিয়ে ২০ শতাংশ বুথে এজেন্ট দিতে পারবে না বাম-বিজেপি। এমনই দাবি করেছেন দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।

বাঁকুড়া জেলার ভোট পরিচালনার জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুব্রতবাবুকে। এদিন ওই সন্ধ্যার দিকে জেলাতেই হাজির ছিলেন দিদির প্রিয় ভাই কেষ্ট। পত্রসায়ারে জনসভা করার পরে সেখানেই কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে আগামী ষষ্ঠ দফার ভোট নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদী রব উঠেছিল সমগ্র দেশ জুড়ে। সেই মোদি ম্যাজিক কিছুটা হলেও ফিকে ছিল বাংলার মাটিতে। তবে এবারে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নাকি বিজেপির দিকে একটা হাওয়া রয়েছে। যদিও তা মানতে নারাজ অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর মতে, “বাঁকুড়া জেলার দু’টো আসন মিলিয়ে মোট ৩৭৮২টি বুথ রয়েছে। সেখানের ৫০০ থেকে ৬০০টির বেশি বুথে প্রার্থী দিতে পারবে না বিজেপি।”

অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য অনুসারে দুই কেন্দ্র মিলিয়ে বাঁকুড়া জেলার ২০শতাংশ বুথেও থাকবে না বিজেপি এজেন্ট। বিজেপির পাশাপাশি বামেদের অবস্থাও একই হবে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি। তাঁর কথায়, “সিপিএমের অবস্থাও একই হবে। ৫০০ থেকে ৬০০ এর বেশি বুথে এজেন্ট দিতে পারবে না। কিন্তু বলবে তৃণমূল এজেন্ট বসতে দেয়নি। যেমন ওরা বলে থাকে।”

সব বুথে এজেন্ট দেওয়ার মতো অবস্থায় বামেরা বা বিজেপি এখনও পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছেন অনুব্রতবাবু। সেই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য দুই রাজনৈতিক দলকে সংগঠনে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাঁকুড়া জেলার বিশ্নূপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়ছেন সৌমিত খাঁ। যিনি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। মাস খানেক আগে দল বদল করে বিজেপিতে যান। দলেরই প্রাক্তন এই সাংসদের সম্পর্কে অনুব্রত মণ্ডল বলেছেন, “সৌমিত্র চোর ছিল। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওকে তাড়িয়ে দিয়েছে।ন পাঁচ বছরে কোনও কাজ করেনি। ২৫ কোটি টাকার মধ্যে এক টাকাও ঠিকমতো খরচ করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে থাকতে হলে মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।”