স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: আবারও স্ব মহিমায় বীরভূমের তৃণমূলের সর্বেসর্বা অনুব্রত মণ্ডল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে রেশন নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগের মধ্যেই ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তিনি। দলীয় কর্মীদের নিদান দিলেন, রেশন নিয়ে কেউ আন্দোলন করলে তাঁর হাত-পা ভেঙে দিতে। অনুব্রতর এই নিদানে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বুধবার একটি জনসভায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুব্রত বলেন, “ঠুঁটো জগন্নাথের মত দেখছিস? হাত-পা নাই নাকি তোদের? নুলো হয়ে গিয়েছিস? বেড়িয়ে হাত-পা ভেঙে দে। কাজ নাই, কম্ম নাই, ফ্ল্যাগ হাতে চলে যাবে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবি নাকি? আমি মুখে না বলতে পারি কাজ কিন্তু বন্ধ রাখবি না। তাহলে ছাড়ব না বলে রাখলাম।”

পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের জেলা সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় পালটা বলেছেন, “তৃণমূল চোরেদের বাঁচাতে চাইছে। চোর রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবেই। তাতে কেউ যদি ইট ছোঁড়ে, আমরা পালটা পাটকেল দেব। এক পা ভাঙলে, দুই পা ভেঙে দেব। ছাড়ব না।”

প্রসঙ্গত, ময়ুরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাখুড়িয়া গ্রামে রেশন ডিলার ভাসু কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৬০ জন মৃত ব্যক্তির রেশন সামগ্রী নিয়মিত তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। দু-দিন আগে অভিযুক্ত ডিলারের বাড়ির সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান গ্রাহকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মল্লারপুর থানার পুলিশ।

এলাকায় হাজির হন বিজেপি সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায়ও। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতির চাপে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে কার্যত বাধ্য হন রেশন ডিলার ভাসু কুমার মণ্ডল। রীতিমতো মুচলেকা দিয়ে তিনি জানান, রেশনে যে সামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন, তা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেবেন।

তার জেরে ময়ূরেশ্বর ব্লকের ৫৭ জন ডিলার নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন এই দাবি করে মঙ্গলবার গণইস্তফা দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই দলীয় কর্মীদের অনুব্রত নির্দেশ দিলেন, রেশন নিয়ে আন্দোলনকারীদের পা ভেঙে দিতে।

পাকুরিযার প্রসঙ্গ টেনে অনুব্রত বলেন, “ওখানে রেশন ডিলারের বাড়িতে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। একটা ডিলারের কাছে আট হাজার কার্ড থাকে। কোনও গরমিল হতেই পারে। তা বলে আইন হাতে তুলে নেবে?”

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I