লাভপুর: একদা ঘনিষ্ঠ মণিরুলের উপর ক্ষেপে লাল অনুব্রত। বিধানসভা ভোটে দাঁড়ালে তাঁকে কুকুরের মতো তাড়ানোর হুঁশিয়ারি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির। একইসঙ্গে সামনের বিধানসভা ভোটে লাভপুরে হারলে জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেবেন বলেও চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাখলেন অনুব্রত মণ্ডল।

মুকুল রায়ের হাত ধরে ঘাসফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন একদা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ তথা লাভপুরের বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। তবে মণিরুলের গেরুয়া-যাত্রা খুব একটা সুখকর হয়নি। মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে।

লাভপুরে একাধিক গন্ডগোলে সরাসরি যুক্ত রয়েছে তাঁর নাম। বিতর্কিত মণিরুলকে দলে নিয়ে বিপাকে পড়েন মুকুল। আরএএস মুকুলের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। এমনকী বীরভূম জেলা বিজেপি নেতৃত্বও মণিরুল দলে এলে একযোগে দল ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন। চাপে পড়ে মণিরুলকে নিয়ে আর মাতামাতি করতে দেখা যায়নি রাজ্য বিজেপিকে।

এদিকে, পুরোন দল ছেড়ে গিয়ে ঘোর বিপাকে পড়তে হয় মণিরুলকেও। শ্যাম রাখি না কূল, দশা লাভপুরের বিধায়কের। এবার সেই লাভপুরেই দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি জানান, লাভপুরে বিজেপির সঙ্গেই মুখোমুখি লড়াই চান তিনি।

লাভপুরে তৃণমূলের হয়ে যিনি দাঁড়াবেন তিনি কমপক্ষে ৬০ হাজার ভোটে জিতবেন বলে দাবি অনুব্রতর। এমনকী লাভপুরে তৃণমূল হেরে গেলে তিনি আর জেলা সভাপতির পদে থাকবেন না বলেও জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।

লাভপুর থেকে পরপর দু’বার তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছেন মণিরুল ইসলাম। বিজেপি বীরভূমে শক্তি বাড়াতেই শিবির বদলানোর চেষ্টা করেন মণিরুল। তবে ওই পর্যন্তই। জেলা বিজেপি নেতৃত্বও তাঁকে এখনও প্রথম সারিতে তুলে আনেনি। মণিরুলের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে এত কিছুতে আমল দিতে নারাজ অনুব্রত। লাভপুরে গিয়ে তাঁর সাফ হুমকি, ‘ডাস্টবিনে নোংরা পড়েছিল। তুলে এনে বিধায়ক করেছিলাম। ভেবেছিলেন ভদ্র হবে, তা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মনিরুল ইসলামই বিজেপির হয়ে দাঁড়ালে ভাল হয়। কুকুর তাড়ানোর মতো তাড়ানো হবে। লাভপুরে তৃণমূল হারলে আর দলের জেলা সভাপতি থাকব না।’

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV