দীপিকা সাহা, কলকাতা: হাই কোর্টের অনুমতি না পেয়ে স্থগিত হয়ে গেল বিজেপির স্বপ্নের রথ যাত্রা৷ এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছে পদ্ম শিবির৷ ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিল বঙ্গ বিজেপি। তাহলে এখন কী হবে? এই নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে দলে৷

বিজেপির রথ যাত্রার পালটা পবিত্র যাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রথের সঙ্গে সমান তালে খোল-করতাল নিয়ে রাস্তায় নামার কথা ঘোষণা করেছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এই কীর্তন যাত্রার জন্য মহড়ার করেছিলেন অনুব্রতর অনুগামীরা। বীরভূম জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছিল প্রস্তুতি।

আদালতের নির্দেশ অনুসারে আগামী জানুয়ারি মাসের নয় তারিখের আগে হচ্ছে না রথ যাত্রা। তাহলে কী হবে কীর্তনের? সেই খোল-করতালের?

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে এবং জনপ্রিয় নেতা অনুব্রত মণ্ডল। একই সঙ্গে বেশ সাবধানী সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির গলায়। কলকাতা ২৪x৭-কে বলেছেন, ‘‘আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না৷ আমার পার্টির মহাসচিব পার্থ দা, সুব্রত বক্সী, ফিরাদ হাকিম আছে তাঁরাই যা বলার বলবেন৷ আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি৷ আইন আইনের পথে চলবে৷’’

খোল বা করতাল নিয়ে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল তা অবশ্য পালন করবেন অনুব্রত মণ্ডল। বিজেপির রথ তো হচ্ছে না। তাহলে কীর্তন কেন করা হবে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে টেনে এনেছেন খোল-করতাল এবং বাংলার সংকীর্তনের পুরনো ইতিহাস।

অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন যে কীর্তনের জন্য যাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল তাঁদের খোল-করতাল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন ১৪ ডিসেম্বর ধুলোড হবে৷ ঢোল জিনিসটি আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল৷ দিন দিন দাম বেড়ে যাওয়ায় গরীব মানুষরা এই ঢোল কিনতে পারছিল না৷ আগে অগ্রহায়ণ মাসে প্রতিদিন ভোর বেলায় বেড়তো৷ মন্দিরে মন্দিরে কীর্তন হত৷ হরে রাম হরে কৃষ্ণ হত৷ বাড়িতে পুজো হলে, বাড়িতে উৎসব হলে, বাড়িতে শান্তি পুজো করলে তখন এই ঢোল ব্যবহার হত৷ কিন্তু দিন দিন এই গুলি সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ এই গুলি তো গ্রামের সব৷ এই গুলি গ্রামের আলোচনাকে বজায় রাখে৷

বীরভূমের মাটিতে বাংলার পুরনো কৃষ্ণ নামের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে চান দিদির আদরের ভাই কেষ্ট। বাংলায় ধুলোড চালু রাখতে বদ্ধ করিকর তিনি। সেই কারণেই তিনি খোল-করতাল দিয়েছেন। তাঁর মতে, “এই গুলি নিয়ে ধুলোড হয়৷ কিছু দিন পর ধান উঠে গেলে সব জায়গায় হরিনাম দল বেড় করে অহরাত্রি হয়৷ তিন চার দিন ধরে একের পর এক হরিনাম দল আসে৷”

বাংলার এই কৃষ্টির ধারা হারিয়ে যেতে বসেছিল। এবং এই সর্বনাশের জন্য পূর্বতন বাম সরকারকে কাঠগাড়ায় তুলেছেন অনুব্রত মণ্ডল। সাত বছর আগেই রাজ্য থেকে পতন ঘটেছে বামেদের। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতির পতন ঘটাতে নারাজ কেষ্ট। তাঁর কথায়, “৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সব শেষ করে দিয়েছে৷ তাই যাতে এটা জেগে থাকে নষ্ট যেন না হয়৷ তাই আমার এই কর্মসূচি৷”

তাহলে পাচনের কী হবে? সেগুলিও তো বিজেপির রথ যাত্রায় ব্যবহার করার কথা বলেছিলেন অনুব্রত। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি বলেছেন, “পাঁচন তো এখন দেড়ি আছে৷ ভোট যখন আসবে তখন তো পাঁচন ব্যবহার হবেই৷ পাঁচন ছাড়া কি ভোট হয়৷ উর্বর জমি ডাঙা হয়ে পড়ে রয়েছে৷ চাষ করতে অসুবিধা হয়৷ তখন পাঁচনের দরকার হবে৷”

1 COMMENT

Comments are closed.