শেষ মুহূর্তের গোলে নাটকীয় জয় এটিকে-মোহনবাগানের। ওডিশা এফসি’র বিরুদ্ধে সবুজ-মেরুনের ম্যাচের বিশ্লেষণে কলকাতা ২৪x৭-এ কলম ধরলেন আইএসএলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার রহিম নবি

তিন ম্যাচে তিন গোল, নায়ক রয় কৃষ্ণা। ম্যাচের নির্যাস বলতে এটুকুই। তবে এটিকে মোহনবাগান বনাম ওডিশা এফসি ম্যাচ কখনোই উচ্চমার্গের হয়নি। কিন্তু কৃষ্ণা যে কত বড় স্ট্রাইকার, ইনজুরি টাইমে গোল করে সেটা বুঝিয়ে দিল ও। অন্যথা আজ সেই অর্থে কোনও খেলাই হয়নি। জঘন্য ফুটবল ছাড়া এটাকে আমি কিছু বলতে পারছি না।

ওডিশার বিরুদ্ধে আজ মোহনবাগানের স্ট্র্যাটেজি নিয়েও আমার বিশেষ কিছু বলার নেই। ওরা যে ফুটবলটা খেলে আজ তার সিকিভাগও খেলতে পারেনি। ভবিষ্যতে এটিকে-মোহনবাগান কোচের এই স্ট্র্যাটেজি কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে আমার জানা নেই। তবে এটুকু বলতে পারি তিন ম্যাচে তিনটে জয় নিয়ে দলটা যে শীর্ষে চলে গেল, এতে আত্মবিশ্বাস আরও কিছুটা বেড়ে গেল দলটার। ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার খেলার মান নিয়ে এটিকে-মোহনবাগান বিচলিত নয়। দিনের শেষে তিন পয়েন্ট পাওয়াই লক্ষ্য ওদের এবং সেটা আজও ওরা করে গেল।

আর সত্যি কথা বলতে এসব টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ভাগ্যেরও সঙ্গ দরকার। আজকের ম্যাচের নিরিখে সেই ভাগ্যটা অন্তত হাবাসের দলকে সঙ্গ দিয়ে গেল। তবে সবকিছুর পরেও বলব আজকে দু’টো দলের কোনও নির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজি আমার চোখে পড়েনি। এটিকে-মোহনবাগানের পাশাপাশি ওডিশার ডিফেন্সকেও আজ নিশ্চয় সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে ঠিকই কিন্তু আক্রমণভাগের ফুটবলাররা যদি ডিফেন্সকে পরীক্ষার সামনেই সেই অর্থে ফেলতে না পারে তাহলে ডিফেন্স যাচাই হল কোথায়? তবে ওডিশার জ্যাকব ট্র্যাট একটি ক্ষেত্রে ওপেন নেট পেয়েছিল, এরকম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই সুযোগগুলো কাজে না লাগালে মুশকিল।

সবমিলিয়ে ওডিশার যা খেলা দেখলাম তাতে আশাবাদী হওয়ার কোনও কারণ দেখছি না। খারাপ ফুটবলের দিনেও এটিকে-মোহনবাগানকে নিয়ে আলাদা করে বলতে হলে বলব অবশ্যই ডিফেন্সের কথা। তিনটে ম্যাচে তিনটে ক্লিনশিট রাখল তিরি-সন্দেশরা, যা এককথায় অনবদ্য। তবে ডাগ-আউট থেকে দলটার কলকাঠি নাড়ছেন কিন্তু হাবাস। উনিই এই দলটার বস। মাঠের বাইরে থেকে যেন ওই ভদ্রলোকটাই রাজত্ব করছেন। উনি যেমনটা বলছেন ছেলেগুলো সেটা পালন করে যাচ্ছে।

তবে আজ এটিকে-মোহনবাগান আক্রমণের নিরিখে একটু নিষ্প্রভ থাকার অন্যতম কারণ হল প্রবীর আজ নিষ্ক্রিয় ছিল। এগুলো একেকটা ম্যাচে হয়। আর মনবীর সিং প্রথম থেকে খেলার মত স্ট্রাইকার নয়। গত দু’টো ম্যাচের মত ওকে পরিবর্ত হিসেবেই নিয়ে আসতে হবে। আজ শুরু থেকে নামিয়ে দেওয়ায় ওকে আজ মাঠে খুঁজেই পাওয়া গেল না। তবে ওসবে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। দল দিনের শেষে তিন পয়েন্ট পেয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।