নিউ ইয়র্ক: একটা মহামারী। যা বদলে দিয়েছে আমাদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দটাকেই। আজ প্রায় চার মাস হতে চলল অফুরন্ত বিশ্রামে আমজনতা। বসে গিয়েছে অর্থনীতির চাকা। তবুও এখনও পর্যন্ত দমানো যায় অদৃশ্য এই ভাইরাসটিকে।

করোনার ছোবলে বিশ্ব জুড়ে শুধুই ত্রাহিত্রাহি রব। করোনা রাতের ঘুম কেড়েছে গবেষক,বিজ্ঞানীদের। তবুও এখনও পর‍্যন্ত পৃথিবীর কোনও দেশই বের করতে পারেনি করোনাকে বশে আনার প্রতিষেধক। যদিও একটা ওষুধের আবিষ্কারের জন্য নিরন্তন আলোচনা গবেষনা চলছে। এই অবস্থায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে করোনাকে প্রতিহত করার। প্লাজমা থেরাপি থেকে শুরু করে ড্রাগ ব্যবহারে করোনা রোধ হবে কি না তা নিয়েও চলছে বিস্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা। তবুওসঠিক সমাধান এখনও অধরা।

আর এই অবস্থায় করোনার সংক্রমণ রোধে নতুন এক আশার কথা শোনালেন সুইডেন এবং সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকার একদল বিজ্ঞানী।

অতি সম্প্রতি তাঁরা তাদের একটি গবেষনা পত্রে দেখিয়েছেন, করোনা বধ হতে পারে আলপাকাস লাইমাস গোত্রীয় প্রাণীদেহে তৈরী অ্যান্টিবডি থেকে। অতিক্ষুদ্র এই অ্যান্টিবডি ন্যানোবডিস নামেও পরিচিত। যা মানব দেহে প্রবেশ করালে যে কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম এবং ভাইরাসের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রক্তের মধ্যে থাকা জীবাণু নষ্ট করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই নানোবডির।

আর এই ‘আলপাকাস’ এবং ‘লামা’ হল উট প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত একধরণের বন্য জন্তু। যা দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

গবেষকদের দাবি, এই দুই প্রাণীর দেহে যে অ্যান্টিবডি রয়েছে তা থেকে যদি টিকা আবিষ্কার করা যায় তবে এটি ভাইরাস মূর্লে সহায়ক হবে।

শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এদের দেহ থেকে তৈরী অ্যান্টিবডি করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার সংক্রমণ প্রতিরোধে উপযোগী হবে। যারফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ধীরে-ধীরে লকডাউন তুলে নেওয়া যাবে। ক্রমশ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে ইতিমধ্যে জার্মানি সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই নানোবডি থেকে কীভাবে ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করা যায় তার উপর গবেষনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা আশাবাদী উট প্রজাতির এই প্রাণীর দেহ থেকে তৈরী অ্যান্টিবডি মানব শরীরে প্রবেশ করালে দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব। যদিও এখন কোনও কিছুই নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। সবটাই সময়ের অপেক্ষা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ