শ্রীনগর: বিজেপিকে রুখতে সবাই একজোট হচ্ছে। এই জোট আসলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। যার কারণে ফের রাজ্য ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে দাবি করেছেন সাংসদ মুজাফফর বেগ।

জম্মু-কাশ্মীরের সাংসদ মুজাফফর বেগ পিডিপি দলের টিকিটে জিতে সাংসদে গিয়েছেন। তার দল পিডিপি, ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেস একজোট হয়েছে বিজেপিকে রুখতে। এই জোটের ফল ভালো হবে না বলে দাবি করেছেন সাংসদ মুজাফফর বেগ। বিজেপি বিরোধী একটা মুসলিমদের জোট হয়েছে বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

মুজফ্ফর হুসেন বেগ, পিডিপি নেতা

কাশ্মীরে বর্তমানে রাজ্যপালের শাসন চলছে৷ ১৯ ডিসেম্বর সেই ৬মাসের মেয়াদের শেষ দিন৷ তারপরেই শুরু হবে রাষ্ট্রপতির শাসন৷ তবে ৮৭ আসনের রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপল মালিক৷ ফলে আগাম নির্বাচনের একটা সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে৷

ওই নির্বাচনের বিজেপি বিরোধী তিন রাজনৈতিক দল জোট গঠন করতে চাইছে। যা একেবারেই ভালোভাবে নিতে পারছেন না অবিজেপি পিডিপি দলের সাংসদ মুজফফর বেগ। তিনি বলেছেন, “এই জোট হলে জম্মুর লোক কী ভাববে? এটা একটা মুসলিম পার্টির জোট হচ্ছে, লাদাখের প্রতিক্রিয়া কী হবে?”

এই ধরনের জোট আসলে রাজ্যের ক্ষতি করবে বলে দাবি করেছেন সাংসদ মুজফফর বেগ। তাঁর আশংকা, “এই ধ্রনের দায়িত্বজ্ঞানহীন জোটের কারণে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য তিন ভাগ হয়ে যেতে পারে।” লাদাখ এবং জম্মু একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের অধীনে চলে যাবে বলেও আশংকা করেছেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এই পিডিপি দলের সঙ্গে জোট করেই জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গড়েছিল বিজেপি। পড়ে সেই মধুর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। কাশ্মীরে বিজেপির ঝুলিতে রয়েছে ২৫ জন বিধায়ক। যাদের সমর্থন করছে পিপলস কনফারেন্সের মাত্র ২জন বিধায়ক৷ কিন্তু এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে প্রয়োজনীয় সেই ৪৪ ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছতে পারছে না বিজেপি৷

এখানেই পাশার চাল উলটাতে কোমর বাঁধছে তিন দল৷ কংগ্রেস, এনসি ও পিডিপি৷ এরআগে, ১৯৯৯ সালের প্রতিষ্ঠিত পিডিপি ২০০২ সালে কংগ্রেস ও কিছু স্বতন্ত্র বিধায়কের সমর্থন নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলেও ২০১৫ সালে বিজেপির সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে পিডিপির কাছে ২৮ জন বিধায়ক, কংগ্রেসের কাছে ১২ ও এনসির কাছে ১৫ জন বিধায়ক রয়েছে৷ ফলে পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাচ্ছে এই জোট৷ সেই রাস্তাতেই হাঁটতে চাইছে তাঁরা৷