ঢাকা: বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে৷ বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর৷ একদিকে প্রবল ডেঙ্গু আতঙ্ক ও দেশজোড়া এই রোগ বিরাট আকার ছড়িয়ে পড়ায় হাজারে হাজারে মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত৷ এর পাশাপাশি এসে গিয়েছে অ্যানথ্রাস্ক রোগ৷ ফলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যে অ্যানথ্রাক্স দেখা যায় তা মূলত শরীরের বাইরের অংশে প্রভাব ফেলে।এই ধরণের অ্যানথ্রাক্সে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁড়া হয়ে থাকে।

মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়া অ্যানথ্রাক্স মূলত দু ধরনের হয়ে থাকে৷ একধরণের অ্যানথ্রাক্স হয় পরিপাকতন্ত্রে, আরেক ধরণের অ্যানথ্রাক্স শরীরের বাইরের অংশে সংক্রমণ ঘটায়। পরিপাকতন্ত্রে অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর সংক্রমণ হলে সাধারণত হালকা জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, গলা ব্যথার মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেসব এলাকায় গবাদি পশু পালন করা হয় সেসব এলাকাতেই সাধারণত অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অ্যানথ্রাক্স গরু, ছাগল, মোষ – এই ধরণের প্রাণীর মধ্যে প্রথম দেখা যায়। এসব প্রাণীর মাধ্যমেই অ্যানথ্রাক্স মানুষের মধ্যে ছড়ায়।মূলত অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস কাটার সময় মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। মাংস কাটাকাটির সময় মানুষের শরীরের চামড়ায় কোনরকম ক্ষত থাকলে তার দেহে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু প্রবেশ করার সম্ভাবনা বেশি বাংলাদেশে অ্যানথ্রাস্ক ছড়ায় জবাই করা মাংস থেকে৷

অ্যানথ্রাক্স জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকতে পারে। নিঃশ্বাসের সাথে, ত্বকের ক্ষত দিয়ে, কিংবা খাদ্যের মাধ্যমে এই জীবাণু দেহে প্রবেশ করে৷ দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। বিশেষ গোরু বা শুয়োরের মধ্যে রোগটি ছড়ায়৷ তার মাংস খেলেই অ্যানথ্র্যাক্সের কবলে পড়তে হবে৷

অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে অ্যানথ্রাক্স রোগটি গোটা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছিল। তখন মারা গিয়েছিল বহু গবাদি পশুসহ অনেক মানুষ। এখন আর ওইরকম মহামারি হয় না৷ কারণ গবাদি পশুকে অ্যানথ্রাক্স টিকা দেয়া হয় ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ২০১০ সাল থেকে। সাতশোর বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ ছড়িয়েছিল আতঙ্ক৷ পরবর্তী সময়ে রোগটি ছড়ালেও টিকার কল্যাণে তেমন বড় আকার নেয়নি৷