হলদিয়া: মা-মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ৷ ধৃতের নাম সুকদেব দাস (শিবু)৷ পেশায় গাড়ির চালক৷ শিবু হলদিয়ার দুর্গাচকের নিউ কলোনির বাসিন্দা৷

বৃহস্পতিবার রাতে হলদিয়ার ভবানীপুর থানার ডিঘাসিপুর এলাকা থেকে সুকদেব দাস (শিবু)কে গ্রেফতার করে দুর্গাচক থানার পুলিশ৷ এই নিয়ে হলদিয়াকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল তিন৷ এদের মধ্যে রয়েছে মূল অভিযুক্ত শেখ সাদ্দাম৷

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারির এই নৃশংস এই খুনের আগে হলদিয়ার হাজারি মোড় থেকে মা ও মেয়েকে হলদি নদীর চরে গাড়ি করে নিয়ে গিয়েছিল এই শিবুই৷ তারপর সেখানেই তাদেরকে নৃশংসভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়৷

সূত্রের খবর,জেরায় সাদ্দাম জানিয়েছে যে, রিয়ার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ যত দিন গিয়েছে রিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে৷ ফলে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ মূহুত্বের বেশ কিছু ছবি-ভিডিও চলে যায় রিয়ার হাতে৷ সাদ্দামের অভিযোগ, সেই ছবি ভিডিওকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেন মা-মেয়ে৷ লক্ষ লক্ষ টাকা ও তার কলকাতার ফ্লাট হাতিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে মা ও মেয়ে৷

আর সেই ব্ল্যাকমেল থেকে রেহাই পেতে খুনের ছক কষে মা মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে সাদ্দাম৷

হলদিয়ায় মা ও মেয়েকে নিশংসভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় শুক্রবার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করে৷ সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ

করেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এদিনের ঘেরাও কর্মসূচিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি নবারুণ নায়েক সহ

অন্যান্যরা। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনকে ভালোভাবে বলছি প্রশাসন আমাদের জানাক কত তাড়াতাড়ি তারা ফাস্ট ট্রাক করবে। দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি চাই।”