নয়াদিল্লি: শনিবার জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কো-অর্ডিনেশন কমিটি একটি ভিডিও সামনে এনেছিল যাতে দেখা গিয়েছিল একদল পুলিশ হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডিং-রুমে ঢুকে পড়ুয়াদের উপরে লাঠিচার্জ করছে। ওই ভিডিওর পাশাপাশি শনিবার আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে ছবিটা অনেকটাই আলাদা।

ইন্ডিয়া টুডের তরফ থেকে প্রকাশিত ওই আনএডিটেড ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু বহিরাগতরা হাতে পাথর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডিং রুমে প্রবেশ করেছিল। দিল্লি পুলিশ ওই বহিরাগতদের হামলাকারী বলে চিহ্নিত করেছে। তাঁরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ওই রিডিং রুমে ঢুকে টেবিলের তলাতে লুকিয়ে পড়েছিল। তবে তাঁদের অধিকাংশের মুখ ঢাকা ছিল। ওই বহিরাগতদের মধ্যে অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ও বন্ধ করে দিয়েছিল।

দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ওই বহিরাগতদের ধরার জন্যই দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা চেষ্টা করছিলেন। আর জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডবের সময়ে বেশ কয়েকজন বাইরের গাড়ি ভাঙচুর করেছিলেন।

জামিয়া কাণ্ডের সময়ে ওই হামলাকারীদের ধরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের গেট দিয়ে ঢুকে বাধ্য হয়ে লাঠি চার্জ করেছিল। নতুন প্রকাশিত হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ১৫ ডিসেম্বর বেশ কয়েকজন প্যারামিলিটারি এবং পুলিশের পোষাক পরে ভেতরে ঢুকে পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধোর করছে। তবে তাদের সকলের মুখ ঢাকা ছিল।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতাতে পা মিলিয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। ঠিক তার কিছুদিন পরে এই ধরণের ঘটনা ঘটাতে অবাক হয়েছিল দেশের মানুষজন। পাশাপাশি শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজাও।

জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটি, এদিন কোন রকম প্ররোচনা ছাড়াই জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঢুকে পুলিশ ছাত্রদের মারছে, দুমাস আগের এমন ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করল৷ ওই বিশ্ববিদ্যালয় সিএএ বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে ৷জামিয়া কো-অর্ডিনেশ কমিটি হল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং প্রাক্তনীদের একটি গোষ্ঠী ৷

৪৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি শনিবার প্রকাশ করেছে৷ সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল পুলিশ হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওল্ড রিডিং হলে (এমফিল সেকশন) ডেস্কে বই পড়ছিল এমন ছাত্রদের লাঠি পেটা করছে ৷ ওই পরিস্থিতিতে ডেস্কে বসা ব্যক্তি নিজেকে বাঁচাতে টেবিলের তলায় লুকোচ্ছে৷ আবার কোন ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সেখান দৌড়াদৌড়ি করতে৷ lতারপর ওই লাইব্রেরি তছনছ করা হয়৷

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা সিএএ বিরোধী মিছিল করার পর ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশি আক্রমণ চলে ৷ পুলিশ এবং ছাত্রদের সংঘর্ষে গাড়িও জ্বলে৷ পুলিশ তার হাতের ব্যাটন এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ওই সময় প্রায় ১০০জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছিল ৷ ওই সংঘর্ষে এক ছাত্র চোখে আঘাত পেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে৷