অযোধ্যা: অসহিষ্ণুতার এই সময়ে হেডলাইনটা হয়ত চোখ টানছে, কিন্তু এই ঘটনা নতুন নয় মোটেই৷ হ্যাঁ৷ বাবরি মসজিদের কলঙ্ক মাথায় নিলেও অযোধ্যা সম্প্রীতির নজির গড়ে নিজেই একটা উদাহরণ৷
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ট্র্যাডিশন বজায় রেখেই রাম জন্মভূমিতে ইফতারের আয়োজন করেছে একটি মন্দিরের ট্রাস্টিবোর্ড৷ সোমবার বিকেলে স্থানীয় মুসলিমদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়৷

স্থানীয় মুসলিমরা সারাদিনের রোজার উপবাস ভঙ্গ করে জড়ো হন মন্দির চত্ত্বরে৷ সরযূ কুঞ্জ নামের এই মন্দিরের ঐতিহ্য ইফতারের আয়োজন করা৷ প্রায় ৫০০ বছর পুরোনো মন্দিরটি রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের ঠিক পাশেই অবস্থিত৷

অযোধ্যা নাম শুনলেই যে আতঙ্কের ছবি ভেসে ওঠে, তাকেই বদলাতে চাইছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ৷ রমজানকে কেন্দ্র করে দিতে চাইছেন একটা সম্প্রীতির বার্তা৷ তাই হয়ত নিমন্ত্রিতদের তালিকায় কোনও ভিআইপি বা রাজনৈতিক নেতা জায়গা পাননি৷ কারণ রাজনীতির বাইরের জগতটায় ধর্মকে সস্তা স্বার্থে ব্যবহার করা হয়না৷ এমনই মত সরযূ কুঞ্জের মহন্ত যুগল কিশোর শরণ শাস্ত্রীর৷

দুই ধর্মের ফারাক বিস্তর, কিন্তু মাঝখানে সেতু তৈরির কাজটা খুব কঠিন নয়৷ সেই কাজটাই করতে চাইছে এই সরযূ কুঞ্জ৷ ইফতারের সময় স্থানীয় মুসলিমরা তো বটেই, যোগ দেন এলাকার প্রতিটি মন্দিরের সন্ন্যাসীরা৷ বিতরণ করা হয় লাড্ডু৷ শুধু নিমন্ত্রিতরাই নন, সেই লাড্ডু খান এলাকার প্রত্যেকে৷
রাম, সীতা ও ব্রহ্মার মূর্তি নিয়ে তৈরি এই মন্দিরের চাতালে বিশাল ইফতারের আয়োজন করে মন্দির কর্তৃপক্ষ৷ এমনকি ইফতারের পরে বৈকালিক প্রার্থনা বা মাগরিব নমাজের ব্যবস্থা থাকে ওই মন্দির প্রাঙ্গনেই৷

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হও শ্লোগান দিয়ে একটি সেমিনারও আয়োজন করে মন্দির কর্তৃপক্ষ৷ যেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, এলাকার ছাত্রছাত্রী সবাই যোগদান করে৷

মাঝে অবশ্য বেশ কয়েক বছর এই ইফতারের আয়োজন বন্ধ রেখেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ৷ এলাকার সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কারণে৷ তবে পরে আবার তা চালু হয়৷

ইফতারে অংশ নেওয়া উর্দু কবি মুজাম্মিল জানান, এই এলাকায় সংখ্যালঘু হয়েও, কখনই নিরাপত্তার অভাব বোধ করেননি তিনি৷ এলাকার হিন্দুদের ব্যবহার ও আগলে রাখার মানসিকতা এই এলাকাকে মুসলিমদের জন্য বাসযোগ্য করে তুলেছে৷