সাঁকতোড়িয়া (পশ্চিম বর্ধমান): দেশের ৪১টি কয়লা ব্লকের নিলাম ও বাণিজ্যিক উত্তোলনের বিরুদ্ধে টানা তিনদিন কয়লাখনিতে উত্তোলন হলই না। বন্ধ ছিল কাজ। রবিবার ভোরে শেষ হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে বড় কয়লাখনি ধর্মঘট।

ডান-বাম কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি এর পরেও কেন্দ্র সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নরম না হলে আবারও স্তব্ধ হবে দেশের কয়লা ক্ষেত্র। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নিলাম বন্ধ না করলে ১৮ অগস্ট ফের হরতাল হবে।

কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের অধীন সবকটি রাষ্ট্রায়ত্ব কয়লা খনি এলাকায় ২-৪ জুলাই ধর্মঘটের বিরাট প্রভাব পড়েছে বলেই দাবি হরতালে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চের।

সিআইটিইউ, আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, টিইউসিসি, এআইসিসিটিইউ, ইউটিইউসি, এইচএমএস, বিএমএস, সেবা, এই কেন্দ্রিক শ্রমিক সংগঠগুলি নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতালে ইসিএল, সিসিএল, বিসিসিএল, ডব্লিউসিএল, এসইসিএল, এনসিএল, মহানদী কোলফিল্ড, এনইসিএল, সিঙ্গারেনি কোলফিল্ড থেকে এক বালতি কয়লা ওঠেনি।

খোদ কয়লা মন্ত্রকের হিসেব, দৈনিক ১৫ লক্ষ কোটি টন কয়লা ওঠে। তিনদিনে ৪০-৪৫ লক্ষ কোটি টন কয়লা ওঠেনি। আর শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, ন্যুনতম ১ হাজার টাকা মজুরি হিসেবে তিন দিনে শ্রমিকরা তিন হাজার টাকা ক্ষতি সামলেও হরতালে সামিল হয়েছেন।

ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের সদর দফতর পশ্চিম বর্ধমানের সাঁকতোড়িয়ায় সব কাজ বন্ধ ছিল। আন্দোলনরত শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, দেশে অন্য কোথাও কয়লা শ্রমিকদের হরতালে বাধা না এলেও একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন হরতাল রুখতে নেমেছিল। ইসিএলের কিছু খনি এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। তবে হরতাল জারি থাকে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই ৪১টি কোল ব্লক নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাষ্ট্রায়ত্ব খনিগুলির শ্রমিকদের মধ্যে ছড়ায় প্রবল অসন্তোষ। দেশীয় ও প্রাকৃতিক সম্পদ্ল৭ বাণিজ্যিক উত্তোলনের বিরোধিতায় ওডিশা, ছত্তিসগড়, ঝাড়খণ্ড সরকার।

তিন রাজ্যেই হরতালের প্রভাব সর্বাত্মক। ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকার এই কয়লা ব্লক নিলামের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ